“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করায় তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে সাজা; পৃথক মামলায় ১২ বছরের বেশি কারাদণ্ড, আপিলের সুযোগ রয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ইরানের ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নাজমেহ আমিনি নামের ওই তরুণীকে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নাজমেহ বর্তমানে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হলেও সেটি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনেও এ তথ্য উঠে এসেছে।

জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলাকালে ইরানিরা তেহরানের একটি রাস্তা অবরোধ করে। এই বিক্ষোভ দুর্বল অর্থনীতির কারণে শুরু হলেও পরে তা রাজনৈতিক ও সরকারবিরোধী রূপ নেয়। ছবি: মাহসা/মিডল ইস্ট ইমেজেস/এএফপি

জানুয়ারির আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজমেহ আমিনিকে গত ৩১ জানুয়ারি মাশহাদের ফেরদৌসি শপিং সেন্টার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্রে তার গ্রেপ্তারের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে তার পরিবার ধারণা করেছিল, সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগে মামলা হয়। এর মধ্যে একটি ছিল মহানবীকে অবমাননার অভিযোগ, যার জন্য ইরানের আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসেনি।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com

আদালতে অভিযোগ অস্বীকারের দাবি

মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, খোরাসান রাজাভি প্রদেশের অপরাধ আদালতের ষষ্ঠ শাখায় নাজমেহর বিচার হয়। আদালতে তিনি মহানবীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অবমাননা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম খোরাসানের বরাতে জানা যায়, নাজমেহ আদালতে দাবি করেন, বন্ধুদের সঙ্গে মাদকজাতীয় একটি পদার্থ গ্রহণের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বক্তব্য লিখেছিলেন। অন্যদিকে, তার আইনজীবীরা বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে দাবি করেন।

তবে আদালত তার পক্ষে দেওয়া এসব ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি। এ ঘটনায় অভিযোগ, আসামিপক্ষের বক্তব্য এবং আদালতের সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগের সব দিক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পৃথক মামলায় ১২ বছরের বেশি কারাদণ্ড

মৃত্যুদণ্ডের মামলার পাশাপাশি নাজমেহ আমিনিকে পৃথক একটি মামলায় ১২ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। দুটি মামলার অভিযোগ ও সাজা আলাদা। ফলে মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং কারাদণ্ডের রায়কে পৃথক বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

  • আরও পড়ুন

মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে মানবাধিকার উদ্বেগ

ঘটনাটি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইরান হিউম্যান রাইটসসহ বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া, অভিযোগের প্রমাণ এবং আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে নাজমেহর মামলায় আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় ও অভিযোগের সব প্রমাণ প্রকাশ্যে না থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

আপিলের সুযোগ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজমেহ আমিনির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। রায়টি সর্বোচ্চ আদালতে বহাল হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

ফলে তার মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং আপিলের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া যায় না।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *