ঢাকা২৪নিউজ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর দাম্মামগামী ফ্লাইট বাতিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। গত ১০ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী মোট ১৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬১টি ছিল সরাসরি ফ্লাইট এবং ৭৩টি ছিল ট্রানজিট ফ্লাইট। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক যাত্রীকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সরাসরি ফ্লাইট বাতিল ৬১টি
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সব মিলিয়ে সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১টিতে। এসব ফ্লাইটে সৌদি আরব যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের অনেকে নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে পারেননি। ফলে তাদের কর্মস্থলে যোগদান, ব্যক্তিগত প্রয়োজন এবং অন্যান্য জরুরি কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল ৭৩টি
সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সের ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বাতিল হওয়া ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগোর ২৮টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট।
এসব ফ্লাইটে যাত্রীদের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে রিয়াদ ও দাম্মামে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলো ঢাকা থেকে যাত্রী পরিবহন করেনি। এতে ট্রানজিটের মাধ্যমে সৌদি আরব যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
হুথিদের হামলার পর ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন
সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের হামলার ঘটনার পর রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে সৌদি আরবের দাম্মামেও হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবগামী বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখে। অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়। এর ফলে নির্ধারিত ফ্লাইটে সৌদি আরব যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের যাত্রাসূচি ব্যাহত হয়। পরিস্থিতির কারণে সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটেও প্রভাব পড়ে।
ভোগান্তিতে প্রবাসী ও সৌদিগামী যাত্রীরা
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে কর্মরত রয়েছেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী। পাশাপাশি প্রতিবছর কাজের উদ্দেশ্যে নতুন কর্মী, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য প্রয়োজনে বহু যাত্রী সৌদি আরব ভ্রমণ করেন।
- আরও পড়ুন
- রিয়াদ-দাম্মামের ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল, দুর্ভোগে ২০ হাজারের বেশি যাত্রী

- দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে, অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর

- শারদীয় দুর্গোৎসবে না’গঞ্জের বিভিন্ন পূজা মন্ডপে মহিলা পরিষদ’র শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান

- ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট লাগানোর নির্দেশ

- অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক, ছাড় পাবে না: আইজিপি

- ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ, নতুন সম্ভাবনার পথে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম

এ অবস্থায় ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান বা জরুরি কাজে সৌদি আরবে পৌঁছানোর কথা ছিল, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের পুনরায় কবে ফ্লাইট দেওয়া হবে, কতজনের যাত্রাসূচি পরিবর্তন করা হয়েছে কিংবা বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর স্বাভাবিক চলাচল পুরোপুরি কবে শুরু হবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিস্থিতির দিকে নজর যাত্রীদের
২১ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১৩৪টি ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় মোট ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ও ট্রানজিট—উভয় ধরনের যাত্রী রয়েছেন।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, টিকিট পুনর্নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জেনে নেওয়া যাত্রীদের জন্য জরুরি।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119