“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

মুগদা-মান্ডা-মানিকনগরে ভয়ংকর ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দৌরাত্ম্য, ব্ল্যাকমেইলে সর্বস্বান্ত সাধারণ মানুষ

আল আমিন আবির

রাজধানীর মুগদা, মান্ডা, মানিকনগর ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলিং চক্র। বিভিন্ন কৌশলে নিরীহ ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। লোকলজ্জা ও সামাজিক সম্মানের ভয়ে অধিকাংশ ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে অভিযোগ না করায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে চক্রটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছে মৌসুমী ওরফে বাপ্পি নামে এক হিজড়া এবং তার সহযোগী ছায়া রুমা। অভিযোগ রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছে।

যেভাবে পরিচালিত হয় প্রতারণার ফাঁদ

অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি প্রথমে কিছু তরুণীকে ব্যবহার করে সম্ভাব্য টার্গেটদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। বিভিন্ন প্রলোভন ও সম্পর্কের অভিনয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করা হয়। পরে তাদের নির্দিষ্ট একটি বাসা বা গোপন স্থানে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে রুমার বাসায়, ডেকে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সেখানে পৌঁছানোর পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে চক্রের অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আপত্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এরপর ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা মামলা বা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ভয়ও দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

  • আরও পড়ুন

প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের সঙ্গে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরও যোগাযোগ রয়েছে। চক্রের সদস্যদের দাবি ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, ব্ল্যাকমেইল করে আদায় করা অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেও তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের নীরব কান্না

চক্রটির খপ্পরে পড়ে ইতোমধ্যে অনেক ব্যক্তি আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “সম্মানের ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারছি না। বারবার টাকা দিতে দিতে আমি এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছি।” স্থানীয়দের মতে, সামাজিক সম্মান হারানোর আশঙ্কায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পান না। আর সেই সুযোগেই চক্রটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি, তাদের সহযোগী এবং কথিত প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক মানুষ এই প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হতে পারেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাজধানীতে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *