“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

মান্দায় পাউবোর ৯৯ লাখ টাকার বাঁধ সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে বাস্তবায়নাধীন ফকিন্নি নদীর নদী রক্ষা বাঁধ সংস্কার ও হেরিং বোন বন্ড নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত প্রকল্পটিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রকৌশল নীতিমালা উপেক্ষা এবং কাজের মান নিয়ে গাফিলতির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের চকহরিনারায়ণ গ্রামের আনসার মেম্বারের বাড়ি থেকে বাকসাবাড়ি এলাকার লুৎফরের বাড়ি পর্যন্ত ৬৭৬ মিটার নদী রক্ষা বাঁধ সংস্কার ও হেরিং বোন বন্ড নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ফেনী জেলার সেতু এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানে বালুর বেড দেওয়ার কথা, সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে ভরাট মাটি।

  • আরও পড়ুন

হেরিং বোন বন্ডের ব্রিক ফ্ল্যাট সলিংয়ে ইটের মাঝখানে ১ সেন্টিমিটার ফাঁক রাখার নিয়ম থাকলেও অনেক স্থানে ১ থেকে ২ ইঞ্চি পর্যন্ত ফাঁকা রেখে ইট বসানো হয়েছে। এছাড়া সলিংয়ের নিচে বালু না দিয়েই সরাসরি মাটির ওপর ইট বসানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইমদাদুল হক, জাহাঙ্গীর আলম ও রুস্তম আলী বলেন, “সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে এমন নিম্নমানের কাজ আগে দেখিনি।

বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, ইটের মানও অত্যন্ত খারাপ। অনিয়মের বিষয়ে কথা বললে ঠিকাদারপক্ষ উল্টো ভয়ভীতি দেখায়। এভাবে কাজ চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ও রাস্তা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” স্থানীয়দের দাবি, জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে যদি শুরু থেকেই অনিয়ম হয়, তাহলে তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজের সাব-ঠিকাদার শামীম হোসেন। তিনি বলেন, “অফিসের মেজারমেন্ট চার্ট অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। যানবাহন চলাচলের কারণে কিছু জায়গায় ইটের ফাঁক তৈরি হতে পারে। আমি সাইটে না থাকার সুযোগে স্থানীয় মিস্ত্রিরা কয়েকটি স্থানে ফাঁকা রেখে ইট বসিয়েছে। বিষয়টি অফিসের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। আমরা অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছি।”

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

এ বিষয়ে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের ইট এবং বালুর পরিবর্তে ব্যবহৃত মাটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও যদি একই ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *