পটুয়াখালী প্রতিনিধি
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সরকারের আরোপিত ২২ দিনের টানা নিষেধাজ্ঞা শুরু হতে যাচ্ছে আজ মধ্যরাত থেকে। আর এই নিষেধাজ্ঞা শুরুর ঠিক শেষ মুহূর্তে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মাছের বাজারগুলোতে লেগেছে ইলিশ কেনার ধুম। নিষেধাজ্ঞা নামার আগে শেষ সুযোগটি কাজে লাগাতে কলাপাড়ার অন্তত ২০টি মাছের বাজারে মাইকিং করে হাঁকডাকে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকেই উপজেলার বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রসঙ্গত, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত ও উৎপাদন বাড়াতে বুধবার মধ্যরাত (৮ অক্টোবর) থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
সাধারণত উপকূলীয় এলাকায় সন্ধ্যার পর মাছের বাজারগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে এলেও বুধবারের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কলাপাড়া, আলীপুর, মহিপুর, চাপলীসহ বিভিন্ন বাজারে মাছ ব্যবসায়ীরা ইলিশের পসরা সাজিয়ে বসেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে এবং হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বাজার এলাকা।
বাজরে মাছের দরদাম
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশের আকার অনুযায়ী দাম হাঁকানো হচ্ছে:
- ১ কেজি ওজনের ইলিশ: ২,৫০০ টাকা থেকে ২,৬০০ টাকা (প্রতি কেজি)।
- ৮০০ – ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ: ১,৫০০ টাকা থেকে ১,৭০০ টাকা (প্রতি কেজি)।
- ৫০০ – ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ: ৮০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা (প্রতি কেজি)।
- জাটকা ইলিশ: ৫০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা (প্রতি কেজি)।
তবে ইলিশের এই দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাজারে ইলিশ কিনতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন বিপু জানান, “নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন পরিবার নিয়ে ইলিশ খাওয়া হবে না, তাই বাজারে কিনতে এসেছি। তবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন দাম কিছুটা বেশি হাঁকা হচ্ছে। বাধ্য হয়েই বেশি দামে প্রয়োজনীয় ইলিশ কিনতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে চাপলী বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী আয়নাল আলী ও বাবুল খান জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে টানা ২২ দিন তাঁদের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। শেষ সময়ে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেই বাজারে ক্রেতাদের চাপ বেশি। আকার ও মানের ওপর ভিত্তি করেই মাছের দাম নির্ধারিত হচ্ছে।
- আরও পড়ুন
- সড়ক পরিবহন খাতের মাফিয়াতন্ত্র ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে: রিজভী

- ৯ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআনের হাফেজ মো. জুনায়েদ হোসেন আব্দুল্লাহ

- রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ওলামাদের উপেক্ষা করলে পরিণতি ভালো হয় না: চরমোনাই পীর

- পূজার ছুটিতে ভয়াবহ যানজটের শঙ্কা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে

- পুলিশ জনআস্থা অর্জন করেছে, আরও বেশি আস্থা প্রতিষ্ঠাই চ্যালেঞ্জ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

- নারায়ণগঞ্জে অসহায় পরিবারের পাশে ইউএনও এস এম ফয়েজউদ্দিন, খাদ্য সামগ্রী প্রদান

মৎস্য বিভাগের প্রস্তুতি ও সরকারি সহায়তা
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কলাপাড়া, আলীপুর, মহিপুর, আশাখালী, দুলাসার, চাপলী ও কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে মাইকিং করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই প্রজনন মৌসুমে কলাপাড়া উপজেলার নিবন্ধিত ১৮ হাজার ৩৬৪ জন জেলের মানবিক সহায়তার জন্য ৪৫৯ দশমিক ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ফলে প্রতিটি জেলে পরিবার ২৫ কেজি করে চাল পাবেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন নদী ও সাগরে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119