ঢাকা২৪নিউজ
সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, বরং সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ ও বিশ্বাসের ভিন্নতা পেরিয়ে দেশের সব নাগরিকের একমাত্র পরিচয় হবে বাংলাদেশি। রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।শনিবার সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহালয়া ও আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সত্য, ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য বা বিভেদের শিকার হতে হবে না। প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে, মাথা উঁচু করে এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে পারবেন। মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া নতুন আশার আলো এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা বহন করে। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এ উৎসবের মূল শিক্ষা।
তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃঢ় বন্ধন। পারস্পরিক ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা, বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দ সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ। জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয়ই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রধান চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। এ কারণেই সরকারের মূল অঙ্গীকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং মহালয়ার সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক কল্যাণ ও শারদীয় দুর্গোৎসবের সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার এবং গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119