“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল জামিয় সৈয়দ আবরারুল করিম কেরাতুল কুরআন মাদ্রাসা

ঢাকা২৪নিউজ

প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে পুরস্কার প্রদান ও তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জামিয় সৈয়দ আবরারুল করিম কেরাতুল কুরআন মাদ্রাসা। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী করা, তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি এবং শিক্ষার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।

বুধবার সকাল ১০টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিশিষ্ট আলেমগণ উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি তাদের আগামী দিনের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করে। শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, আদব-কায়দা ও উত্তম চরিত্র গঠনের মধ্য দিয়েই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করে।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, প্রতিটি পরীক্ষার পর কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে তাদের সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো করার প্রতিযোগিতাও তৈরি হচ্ছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

একজন কৃতকার্য শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, জামিয় সৈয়দ আবরারুল করিম কেরাতুল কুরআন মাদ্রাসায় প্রতিটি সাময়িক পরীক্ষা শেষে এ ধরনের আয়োজন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং তাদের উত্তম পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া। মাদ্রাসার শিক্ষক ও ওস্তাদগণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ও যত্নশীল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা২৪নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে এই মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছে। জামিয় সৈয়দ আবরারুল করিম কেরাতুল কুরআন মাদ্রাসায় সন্তানকে পড়ানোর বিষয়ে আমার কোনো ধরনের আক্ষেপ নেই। বরং আমি মনে করি, এখানকার শিক্ষক ও ওস্তাদগণ শিক্ষার্থীদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। তাঁরা পরিশ্রমী, বিনয়ী এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার ব্যাপারে আন্তরিক।”

তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলে মোঃ জুনায়েদ হোসেন আব্দুল্লাহ হেফজ বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। তার এই সফলতার পেছনে অবশ্যই তার ওস্তাদদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনায় অমনোযোগী হতেই পারে। কিন্তু যে শিক্ষক একজন অমনোযোগী শিক্ষার্থীর মন পড়ালেখার প্রতি ফিরিয়ে আনতে পারেন, তিনিই প্রকৃত শিক্ষক।”

অভিভাবকদের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরে মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “আমাদের অভিভাবকদের মনে রাখা উচিত পিতা-মাতা সন্তানকে জন্ম দিয়ে পৃথিবীর আলো দেখান, আর ওস্তাদগণ সেই আলোতে কীভাবে চলতে হয় তা শেখান। পৃথিবীতে একজন সন্তানের জীবনে প্রথম স্থান বাবা-মায়ের, এরপরই আসে ওস্তাদের স্থান। তাই একজন সন্তানের ভবিষ্যৎ গঠনে বাবা-মায়ের পাশাপাশি শিক্ষকের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

পুরুস্কার প্রাপ্ত সকল ছাত্র

অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মারুফ খন্দকারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আল্লাহপাক আমাকে এই জীবনে যা দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ। এই প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের কাছে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আল্লাহর দরবারে আমার একটাই চাওয়া আমার সন্তান ও আমার ছাত্রদের যেন উত্তম আদর্শ, উত্তম চরিত্র ও উত্তম আখলাকের অধিকারী করে গড়ে তুলতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানোই মাদ্রাসার উদ্দেশ্য নয়; বরং তাদের ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা, শিষ্টাচার ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরা মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা ও এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন। তারা সন্তানদের এমন একটি পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের শিক্ষার মান উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • আরও পড়ুন

প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নাম
হেফজ বিভাগের দ্বিতীয় মোঃ জুনায়েদ হোসেন আব্দুল্লাহ বিন জাকির

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *