ক্রীড়া প্রতিবেদক
শ্বাসরুদ্ধকর এক সেমিফাইনাল লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল তীব্র শারীরিক লড়াই, উত্তেজনা আর শেষদিকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন—যার নায়ক নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসি।
প্রথমার্ধ: উত্তেজনা, ট্যাকল আর গোলশূন্য লড়াই
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল আক্রমণাত্মক মেজাজে। মাঝমাঠে একের পর এক শক্ত ট্যাকল, ফাউল এবং উত্তেজনায় ভরপুর ছিল পুরো প্রথমার্ধ।
ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন মেসিকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেন, একাধিকবার বল কেড়ে নেন এবং শক্ত ট্যাকলে তাকে আটকে রাখেন। ৩৭ মিনিটে তার এক ট্যাকলে মেসি মাটিতে পড়ে গেলে সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
৩২ মিনিটে ডেকলান রাইসের ভাসানো বলে জন স্টোনসের হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। অন্যদিকে ৩৯ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে এনজো ফার্নান্দেজের শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।
প্রথমার্ধে গোল না হলেও লড়াইয়ের তীব্রতায় কোনো কমতি ছিল না। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধ: ইংল্যান্ডের এগিয়ে যাওয়া
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ম্যাচে প্রথম গোলটি করে ইংল্যান্ড। ডেকলান রাইসের পাস থেকে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রসে নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এই গোলের পর ইংল্যান্ড রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। কোচ টমাস টুখেল একাধিক ডিফেন্ডার নামিয়ে পাঁচজনের রক্ষণভাগ গড়ে তোলেন।
আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানো
গোল হজমের পর আক্রমণের ধার বাড়াতে একের পর এক পরিবর্তন আনেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিকো গঞ্জালেস, রদ্রিগো ডি পল, ম্যাক অ্যালিস্টারদের নিয়ে চাপ বাড়াতে থাকে আর্জেন্টিনা।
৬৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে গঞ্জালেসের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকান জর্ডান পিকফোর্ড। ৭৬ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
অবশেষে ৮৫ মিনিটে আসে সমতা। কর্নার থেকে বল ফিরে পেয়ে মেসি নিখুঁত পাস দেন এনজো ফার্নান্দেজকে। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া বাঁকানো শটে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে গোল করেন তিনি।
এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করার বিরল রেকর্ড গড়েন মেসি।
শেষ মুহূর্তের জাদু
নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে আসে ম্যাচের নিষ্পত্তি। ৯০+২ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের শট প্রতিহত হওয়ার পর বল পেয়ে বক্সে অসাধারণ এক চিপ ক্রস দেন মেসি।
সেই বলে দৌড়ে এসে দারুণ এক হেডে গোল করেন বদলি লাউতারো মার্টিনেজ। এতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা এবং কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের জয়।
শেষদিকে ইভান টনি ও মার্কাস রাশফোর্ডকে নামিয়েও আর সমতায় ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির।
- আরও পড়ুন
- দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসায় ফলাফল ঘোষণা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

- নতুন রূপে মারিয়া মীম, শুক্রবার আসছে ‘রিল রঙ্গিলা’

- খুলশীতে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ

- ‘শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিচ্ছে’—রিজভী

- দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, দুই মাসে খুলছে কালিয়ার বারইপাড়া সেতু

- বাকেরগঞ্জে বালুর বস্তায় রাখা বোমার বিস্ফোরণ: শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত

ফাইনালের লড়াই সামনে
এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্য সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন।
এখন শিরোপা নির্ধারণের মহারণে মুখোমুখি হবে দুই পরাশক্তি—আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন সেই মহারণের দিকেই, যেখানে আবারও বড় মঞ্চে দলের ভরসা হয়ে উঠলেন লিওনেল মেসি।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119