“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

‘ইসলামী আইনে বিক্ষোভের স্থান নেই’, আফগানিস্তানে সব ধরনের প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করল তালেবান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করার পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তালেবান সরকার। তাদের দাবি, দেশটিতে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার নতুন বিধান ইসলামী আইন বা শরিয়া ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলামী শাসনব্যবস্থায় জনগণের অভিযোগ বা অসন্তোষ প্রকাশের জন্য রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার প্রয়োজন নেই।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় বিক্ষোভের অস্তিত্ব নেই।’ তাঁর দাবি, বিক্ষোভ মূলত এমন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দেখা যায়, যেখানে ভিন্ন ধরনের আইন ও শাসনব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের উদাহরণ দেন তিনি।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com

কেন বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল তালেবান?

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার পর দেশটির ক্ষমতা পুনরায় দখল করে তালেবান। এরপর তারা আফগানিস্তানে ইসলামী বা শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশটিতে বিক্ষোভের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। এর মধ্যেই গত মাসে তালেবান সরকার নতুন একটি বিধান জারি করে। ওই বিধানে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তালেবান সরকারের ভাষ্য, ইসলামী শাসনব্যবস্থায় জনগণ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ না করেও তাদের অভিযোগ, দাবি কিংবা উদ্বেগ সরকারের কাছে তুলে ধরতে পারেন।

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার ফলে মানুষের সময় নষ্ট হওয়া কমবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের সময় ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার মতো ঘটনাও ঠেকানো সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনা

তালেবান সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, বিক্ষোভের অধিকার সীমিত বা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে আফগানিস্তানে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ আরও সংকুচিত করা হচ্ছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত মাসের শেষ দিকে নতুন বিধানটির সমালোচনা করে বলেছে, এটি তালেবানের ভিন্নমত দমনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই আরেকটি উদাহরণ।

সংগঠনটির মতে, সরকারের নীতির সমালোচনা কিংবা নিজেদের দাবি-দাওয়া প্রকাশের জন্য জনগণের শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। বিক্ষোভের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা সেই অধিকারকে গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করে তারা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও আফগানিস্তানে তালেবানের সাম্প্রতিক আইন ও নীতিগত পরিবর্তনের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ দেশটিতে মানবাধিকারের পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলছে।

বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তালেবানের নেওয়া গুরুতর বিধানগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে সরকারের সমালোচনা কিংবা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে মানুষের মত প্রকাশের সুযোগ আরও কমে যাবে।

নারী অধিকার নিয়ে প্রতিবাদেও সহিংসতার অভিযোগ

আফগানিস্তানে গত কয়েক বছরে বিক্ষোভের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও নারী অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ হয়েছে। বিশেষ করে তালেবান সরকারের নারী নীতির বিরুদ্ধে দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

  • আরও পড়ুন

জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে নারী অধিকার নিয়ে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর তালেবানের বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে।

এর মধ্যেই দেশটিতে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নতুন করে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তালেবান সরকার অবশ্য তাদের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে ইসলামী আইন ও দেশের নিজস্ব শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।

ফলে আফগানিস্তানে বিক্ষোভের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা একদিকে তালেবানের ঘোষিত শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থার অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে এটি মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের ওপর বড় ধরনের বিধিনিষেধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: এএফপি

ঢাকার E দোকান

📱
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *