

বিনোদন ডেস্ক
বলিউডে দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে কাজের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে এবার নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জ়িন্টা। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে তিনি দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেছেন। তবে অতিরিক্ত কাজের পেছনে ছিল বিশেষ একটি কারণ—যত দ্রুত সম্ভব শুটিং শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সন্তানদের কাছে ফিরে যাওয়া।
সম্প্রতি আসন্ন সিনেমা ‘ভাইব’-এর ঝলক প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রীতি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা কুণাল খেমু।
প্রীতি বলেন, শুটিংয়ের সময় দীর্ঘ হলে একজন শিল্পীর জন্য পরিস্থিতি কতটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। তবে নিজের ক্ষেত্রে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করার সিদ্ধান্তটি তিনি নিয়েছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে।
অভিনেত্রীর ভাষায়, প্রত্যেক মানুষের পরিস্থিতি আলাদা। তিনি একসময় টানা ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেছেন, কারণ যত দ্রুত সম্ভব ভারতে নিজের শুটিংয়ের কাজ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইতেন।
প্রীতি জানান, তখন তাঁর মাথায় মূলত একটি বিষয়ই কাজ করত—যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়া। তাই শুটিং সেটে দীর্ঘ সময় কাজ করতেও তিনি প্রস্তুত ছিলেন।
তবে এভাবে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করা যে মোটেও সহজ ছিল না, সেটিও স্বীকার করেছেন প্রীতি। টানা শুটিং এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টা শারীরিক ও মানসিকভাবে একজন অভিনেতার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
বর্তমানে বলিউডে অভিনয়শিল্পীদের কর্মঘণ্টা এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে সন্তান হওয়ার পর তারকারা কীভাবে কাজের সময় ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সমন্বয় করছেন, তা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা সামনে এসেছে।
গত বছর অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন এবং পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি বাঙ্গার মধ্যে কাজের শর্ত নিয়ে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। প্রভাস অভিনীত ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকে শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান দীপিকা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, দিনে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ না করা, পারিশ্রমিক এবং সিনেমার লাভের অংশ নিয়ে তাঁর কিছু শর্ত ছিল। এসব বিষয় নিয়েই পরিচালকের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়।
সন্তানের জন্মের পর কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে দীপিকা আরও সচেতন হয়েছেন বলেও বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কাজের সময় কমিয়ে পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখার বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানা যায়।

Dhaka24NewsEdit Profile
এদিকে, প্রীতি জ়িন্টার বক্তব্যও দেখিয়ে দেয়—একই ধরনের কর্মঘণ্টা হলেও তারকাদের পরিস্থিতি একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। কারও কাছে দীর্ঘ সময় কাজ করা পেশাগত চাপের বিষয়, আবার কারও কাছে সেটিই হতে পারে দ্রুত কাজ শেষ করে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার একটি সচেতন সিদ্ধান্ত।
দীর্ঘ কর্মঘণ্টা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও প্রীতির অভিজ্ঞতা তাই বলিউডের তারকাদের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119