“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: ২,৪০০ মেগাওয়াটে বদলাতে পারে অর্থনীতির চিত্র

বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নিরাপত্তা ভালভ পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদিত হওয়ায় পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে আগামী মাসে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু, তাপ উৎপাদন বৃদ্ধি, টারবাইন চালু এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পৃথক কারিগরি ধাপ। এর আগে সেপ্টেম্বরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তা ভালভ পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। পরে উচ্চচাপে দুই দফা পরীক্ষা সম্পন্ন করে ফলাফল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রূপপুর প্রকল্পের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এ পর্যায়ে চুল্লির ভেতরে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চুল্লির কার্যক্রম এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, এ পর্যায়ের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে চুল্লির তাপ উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সময়ও টারবাইন, জেনারেটর ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই চলবে। সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পরই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পূর্ণ সক্ষমতায় বাণিজ্যিক উৎপাদন এক বিষয় নয়। রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় নির্মিত কেন্দ্রটিতে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করতে পারে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রচলিত তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে তাপ উৎপাদন করা হলেও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম পরমাণুর বিভাজন বা নিউক্লিয়ার ফিশনের মাধ্যমে তাপ তৈরি হয়। এ তাপে উৎপন্ন বাষ্প টারবাইন ঘোরায় এবং টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ তুলনামূলক কম হওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদে কার্বন নিঃসরণ কমাতেও এ প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে জ্বালানি আমদানি ও ব্যয় কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপর। একই সঙ্গে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা, বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ জনবল এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কেন্দ্রটির পরিকল্পিত পরিচালনকাল ৬০ বছর। প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়ন, নিরাপত্তা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এ মেয়াদ আরও ২০ থেকে ৩০ বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকতে পারে। সাধারণ পরিচালন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর পরপর নতুন পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজনের প্রয়োজন হতে পারে। এ সময় নির্ধারিত মেয়াদে ইউনিট বন্ধ রেখে জ্বালানি পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com
@keyframes moveLeftRight { 0% { left: 0; } 100% { left: calc(100% – 200px); } } @keyframes moveRightLeft { 0% { transform: translateX(100%); } 100% { transform: translateX(-100%); } } @keyframes moveLeftRightText { 0% { transform: translateX(-100%); } 100% { transform: translateX(100%); } }

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ধারণা স্বাধীনতার পরপরই আলোচনায় আসে। ১৯৭৭ সালে ফরাসি প্রতিষ্ঠান সোফ্রাটম ১২৫ মেগাওয়াটের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করলেও সে সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সমীক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উদ্যোগের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ১৯৯৬ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকে বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০৫ সালে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি এবং ২০০৭ সালে ৫০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। পরে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে বর্তমান প্রকল্প কাঠামো নির্ধারিত হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে কমিশনিং কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করে। বিভিন্ন সরকারের আমলে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিএনপি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও বর্তমান বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পরমাণু শক্তি অনুবিভাগের যুগ্মসচিব শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নয়, বরং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলারও বড় সুযোগ। তিনি জানান, প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামও ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই অনুবিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব বাসসকে বলেন, কেন্দ্রটি চালু হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও অর্থনীতির প্রচলিত অনেক হিসাব নতুনভাবে বিন্যস্ত হতে পারে। তাঁর মতে, অতিরিক্ত ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনও রূপপুর প্রকল্পকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুফল নিশ্চিত করতে শুধু উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং দক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় গ্রিডে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকলে কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো কঠিন হতে পারে। ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে স্মার্ট গ্রিড সম্প্রসারণ, সর্বনিম্ন ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, স্বচ্ছ বিদ্যুৎ মূল্যব্যবস্থা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট জ্বালানি ব্যবহারে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এসব উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করে রূপপুর কেন্দ্র পরিচালনা করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী হতে পারে। তবে প্রকল্পটির সাফল্য নির্ভর করবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, আর্থিক সক্ষমতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর। পরীক্ষামূলক উৎপাদন থেকে পূর্ণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে উত্তরণের প্রতিটি ধাপ তাই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *