“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

মাদক ব্যবসায়ী নুরা ও মাসুদের আতঙ্কে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ফটো সাংবাদিক আমজাদ পরিবার

এসিআই পানির কল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ; অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের এসিআই পানির কল এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। এ ঘটনায় নূর হোসেন ওরফে ‘ইয়াবা নূরা’, মাসুদ মিয়া ও তাঁদের কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ফটোসাংবাদিক এইচএম আমজাদ হোসেন মোল্লা।

অভিযোগকারীর দাবি, এলাকায় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর থেকে তিনি ও তাঁর পরিবার চাপের মধ্যে রয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই, অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ
অভিযোগে নূর হোসেন ওরফে ইয়াবা নূরা, তাঁর আত্মীয় মাসুদ মিয়া এবং তাঁদের সঙ্গে চলাফেরা করা কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। অতীতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা কারাভোগের ঘটনা থাকলে সেগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট থানা, আদালতের নথি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের কয়েকজনের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ও সম্পদ অর্জন নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন রয়েছে। একসময় টিনের ঘরে বসবাস করলেও পরবর্তী সময়ে বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করে সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে কারও সম্পদ বৃদ্ধি বা বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়টি এককভাবে অপরাধের প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য, নথিপত্র কিংবা আইনগত ভিত্তি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।

ইকোপার্কের বালু লুটের অভিযোগ
এসিআই কোম্পানির ইকোপার্ক-সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এ ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনের নাম স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।

তবে বালু উত্তোলন বা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা, সংশ্লিষ্ট জমি বা স্থাপনার মালিকানা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া কাউকে দায়ী করা সমীচীন নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রতিবাদ করায় হুমকি বা চাপের অভিযোগ
ফটোসাংবাদিক এইচএম আমজাদ হোসেন মোল্লার দাবি, তিনি মাদক, সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে তাঁকে চাপে রাখার চেষ্টা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আমজাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে হুমকি বা হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ঘটনা, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

থানায় সাধারণ ডায়েরির তথ্য যাচাই প্রয়োজন
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ফটোসাংবাদিক আমজাদ ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে জিডির নম্বর হিসেবে ‘১২৯৫’ এবং তারিখ হিসেবে ‘২৯ নভেম্বর ২০১৮’ উল্লেখ রয়েছে।

তবে জিডির নম্বর, তারিখ ও বিষয়বস্তু থানার নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। জিডি করা হয়ে থাকলেও সেটি নিজে থেকে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না; বরং এটি অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার তথ্য নির্দেশ করে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
অভিযোগকারী এইচএম আমজাদ হোসেন মোল্লা স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশক, সাংবাদিক সমাজ এবং পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর দাবি, এলাকায় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং অভিযোগ জানানোর কারণে কেউ যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন।

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদকবিরোধী অভিযান, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা প্রয়োজন।

ঢাকা২৪নিউজের বক্তব্য: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট থানার নথি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের।

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *