“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বছরে ঝরছে আড়াই হাজারের বেশি প্রাণ

ছয় বছরে ১৫ হাজারের বেশি মৃত্যু, ঝুঁকিতে তরুণ ও শিশুরা; দুর্ঘটনা কমাতে মানসম্মত হেলমেট, কঠোর আইন প্রয়োগ ও উন্নত গণপরিবহনের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

মোঃ জাকির হোসেন

দেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো, তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াত এবং রাইড শেয়ারিংয়ের কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই বাহন। তবে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইন অমান্য, মানহীন হেলমেট ব্যবহার এবং ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হয়েছেন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২ হাজার ৬০৯ জন। অর্থাৎ পরপর দুই বছরই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু চালকদের সচেতনতা বা পুলিশি অভিযান যথেষ্ট নয়। মোটরসাইকেল চালনায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত হেলমেট নিশ্চিত করা, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং নিরাপদ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে।

ছয় বছরে প্রাণ গেছে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ৮ আগস্ট প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে দেশে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭১২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময়ে ৫ হাজার ৪৯৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটেছে ৩ হাজার ৫৪৮টি দুর্ঘটনা বা ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ঘটেছে ৬ হাজার ৩১৪টি দুর্ঘটনা, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও স্বজন হারানোর বেদনা। বিশেষ করে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিহত হলে দীর্ঘদিন ধরে এর আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব বহন করতে হয় অন্য সদস্যদের।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com

নিবন্ধিত মোটরযানের প্রায় ৭৪ শতাংশই মোটরসাইকেল

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ৬৮ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৪টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেল রয়েছে ৫০ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৮টি। অর্থাৎ নিবন্ধিত মোটরযানের প্রায় ৭৪ শতাংশই মোটরসাইকেল।

যানজট এড়িয়ে চলাচল, ব্যক্তিগত কাজে দ্রুত যাতায়াত এবং রাইড শেয়ারিংয়ের সুযোগ এ বাহনের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল সড়কে চলাচল করলেও সেই অনুপাতে চালকদের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগ কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উন্নত ও সহজলভ্য গণপরিবহনের অভাব এবং তীব্র যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে তরুণ ও শিশুরা

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের বড় অংশই তরুণ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দুর্ঘটনাসংক্রান্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো, ঝুঁকি নিয়ে অন্য যানবাহনকে অতিক্রম করা, ট্রাফিক সংকেত উপেক্ষা করা এবং পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জনের আগেই মহাসড়কে চলাচলের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

শিশুদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ শিশু মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৪৭ জনের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর, ২ হাজার ৮৮৪ জনের বয়স ৬ থেকে ১২ বছর এবং ১ হাজার ৫৩২ জনের বয়স শূন্য থেকে ৫ বছরের মধ্যে।

ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে বাড়ছে প্রাণহানি

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির অন্যতম বড় কারণ ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষ। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীদের গুরুতর আহত কিংবা নিহত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। চার চাকার গাড়ির মতো মোটরসাইকেলে চালক ও যাত্রীদের ঘিরে কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা নেই। ফলে সংঘর্ষের সময় চালক বা আরোহী সড়কে ছিটকে পড়তে পারেন এবং গুরুতর আঘাতের ঝুঁকিতে পড়েন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ৬ হাজার ৪৮১টি দুর্ঘটনায় পণ্যবাহী যানবাহন দায়ী ছিল, যা মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মোটরসাইকেলচালক এককভাবে দায়ী ছিলেন ৫ হাজার ৮৩১টি দুর্ঘটনায়। এ ছাড়া বাসের কারণে ২ হাজার ১৬৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এ ধরনের সড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৬ হাজার ৬৮৯টি, যা মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে ৪ হাজার ৭৭৩টি দুর্ঘটনা।

মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে কমতে পারে মৃত্যুঝুঁকি

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুঝুঁকি কমাতে মানসম্মত হেলমেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করলে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

তবে দেশে হেলমেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা ঘাটতি রয়েছে। অনেক চালক মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করেন না। আবার চালক হেলমেট পরলেও পেছনের আরোহীর মাথায় যথাযথ সুরক্ষাসম্পন্ন হেলমেট থাকে না। হেলমেটের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মানসম্মত ফুল-ফেস হেলমেট বাধ্যতামূলক করার তাগিদ

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান বলেন, বাংলাদেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৪০ শতাংশ মোটরসাইকেল-সংশ্লিষ্ট। গত ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাঁদের বড় একটি অংশ তরুণ ও শিশু-কিশোর।

তিনি বলেন, মানসম্মত হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। শহর ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের গতিসীমা নির্ধারণ করে সিসিটিভি ও স্পিড গান দিয়ে নিয়মিত নজরদারি করা প্রয়োজন। শারমিন রহমান চালক ও আরোহী উভয়ের জন্য সার্টিফায়েড ও মানসম্মত ফুল-ফেস হেলমেট বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা এবং সহজলভ্য, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালুর সুপারিশ করেন তিনি।

তাঁর মতে, সরকার সড়ক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

হেলমেটের নির্দিষ্ট মানদণ্ড আইনে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবা চালুর পর মফস্বলে মোটরসাইকেল চালানো অনেক চালক ঢাকায় এসে গাড়ি চালাচ্ছেন। কিন্তু মফস্বলের সড়ক ও রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে মোটরসাইকেল চালানোর পরিস্থিতি এক নয়। নতুন পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হেলমেটের মান নির্দিষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু হেলমেট পরলেই হবে না, সেটি মানসম্মত কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। আইন সংশোধন করে হেলমেটের নির্দিষ্ট মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা কার্যকর করা সহজ হবে।

মোটরসাইকেলে শিশু বহনের বিষয়েও সতর্ক করেন এই বিশেষজ্ঞ। তাঁর মতে, অনেক অভিভাবক নিজে হেলমেট পরলেও সঙ্গে থাকা শিশুর মাথায় হেলমেট দেন না। এতে দুর্ঘটনার সময় শিশুরা আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে দীর্ঘপথ যাত্রার সময় নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহার এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।

মোটরসাইকেল আমদানি ও বিপণন বন্ধের দাবি

দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে মোটরসাইকেল আমদানি ও বিপণন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেল আমদানি ও বিক্রি অব্যাহত রেখে একদিকে অভিযান চালানো এবং অন্যদিকে এর বিস্তার ঘটানো—দুই নীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। তাঁর মতে, মোটরসাইকেল থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির অর্থনৈতিক প্রভাবও হিসাব করা প্রয়োজন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মোটরসাইকেলের কারণে দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতে কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা নিরূপণে বিস্তারিত গবেষণা দরকার। শুধু পুলিশি অভিযান ও জরিমানা দিয়ে পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব নয়; এ জন্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। মোটরসাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি গণপরিবহনের দুর্বল সেবার মান এবং রাইড শেয়ারিংয়ের প্রসারের কথা উল্লেখ করেন।

গণপরিবহন উন্নয়ন ও আইনের প্রয়োগে জোর

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে টেকসই গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। তিনি বলেন, মোটরসাইকেলচালকদের একটি বড় অংশ কিশোর-তরুণ। তাঁদের অনেকেই ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মানেন না এবং মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারেও ঘাটতি রয়েছে। বেপরোয়া চালনার কারণে তাঁরা নিজেরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, একই সঙ্গে অন্যদেরও ঝুঁকিতে ফেলছেন।

মোটরসাইকেলচালকদের পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চালকদের অসতর্কতা ও বেপরোয়া চালনাকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। দুর্ঘটনা কমাতে উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

  • আরও পড়ুন

সাইদুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল গণপরিবহনের বিকল্প নয়। কিন্তু সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক গণপরিবহন না থাকায় মানুষ ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অনেকে দূরপাল্লার যাত্রাতেও মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। তিনি রেল, নৌ ও সড়ক পরিবহনসহ সব মাধ্যমের সমন্বয়ে টেকসই গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের সুযোগ পেলে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরতা কমবে, যা দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সমন্বিত উদ্যোগই পারে প্রাণহানি কমাতে

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে চালকদের সচেতনতা, দক্ষতা বৃদ্ধি, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি ও নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো। একই সঙ্গে ভারী যানবাহনের নিরাপদ চলাচল, লেন শৃঙ্খলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে নজরদারি জোরদার করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচার, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনে দায়িত্বশীল উপস্থাপনা এবং সহজলভ্য গণপরিবহন নিশ্চিত করারও সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংশ্লিষ্টদের মতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে একক কোনো পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, চালক ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই সড়কে অকালমৃত্যু কমিয়ে মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পথ তৈরি হবে।

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *