“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

আদালতের নির্দেশে কবর থেকে শিশুর লাশ উত্তোলন ১০ মাস পর

নওগাঁয় রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য, হত্যার অভিযোগে উত্তেজনা

এ.বি.এম. হাবিবুর রহমান
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় তিন বছরের শিশু নাঈমের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় ১০ মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। এসময় নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোঃ রাশেদ, জেলা সিআইডি, থানা পুলিশ, ডিএসবি এবং মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

লাশ উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

  • আরও পড়ুন

‘পানিতে ডুবে নয়, পরিকল্পিত হত্যা’—পরিবারের দাবি

নিহত নাঈমের পরিবারের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক পানিতে ডুবে মৃত্যু নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবার জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন বাথরুমে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে নাঈমের বড় ভাই নাহিদ ইসলাম সাগর। পরে ভিডিওটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে সাগরের পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে।

স্বজনদের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সকালে নাঈমকে কৌশলে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে লাশ পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, নাঈমের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং পেটে পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ভেজা প্যান্ট পরে এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে বলেও তারা জানান।

মামলা, তদন্ত ও নতুন করে অনুসন্ধান

ঘটনার পর পরিবার থানায় একাধিকবার যোগাযোগ করলেও মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বাধ্য হয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন। বর্তমানে ৯০৪ নম্বর মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রথমে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে বাদী পক্ষ সেই প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি দেন। তাদের দাবি, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যেও অসংগতি রয়েছে। এরপর আদালত মামলাটি সিআইডিকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডির তদন্ত টিম এলাকায় গিয়ে অনুসন্ধান চালালে কিছু মহল এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেও জানা গেছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

দাফনে বাধা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

নাঈমের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের সময়ও বাধার সম্মুখীন হতে হয় পরিবারের। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দাফন সম্পন্ন হয়।

এলাকাবাসীর দাবি—সঠিক তদন্ত ও বিচার

স্থানীয়দের দাবি, এই নির্মম ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *