“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

২১ দিনেও ফেরেনি মা! নাঙ্গলকোটে দুই অবুঝ শিশুর বুকফাটা আহাজারি, সন্ধান চায় পরিবার

ইলিয়াছ হোসাইন
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

“মা কবে আসবে? আমাদের মা কোথায় গেল?”— সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এমন অবুঝ প্রশ্নে আর বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হেসাখাল খিলপাড়া গ্রামের বাতাস। দীর্ঘ ২১ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন দুই সন্তানের জননী ফারজানা আক্তার (২৫)। মায়ের জন্য দিন-রাত অবুঝ দুই শিশু ফারিয়া (৬) ও ফারাবীর (৪) কান্না যেন থামছেই না। এদিকে ঘটনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ গৃহবধূর কোনো সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ। উল্টো পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

অবুঝ শিশুদের কান্না ও অসহায় পরিবার

ফারজানার শ্বশুর আব্দুর রব ও শাশুড়ি হালিমা বেগম জানান, ছেলে বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই ফারজানা মোবাইলে অতিরিক্ত কথা বলতেন, যা নিয়ে তাকে বেশ কয়েকবার সতর্কও করা হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে সালিসি বৈঠকও হয়। কিন্তু সেই ঘটনার এক মাস পার হতেই গভীর রাতে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন ফারজানা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলেন, “বাচ্চা দুটি প্রতি রাতে মায়ের জন্য ছটফট করে আর কান্নাকাটি করে। অবুঝ শিশুদের এই কান্না আমরা সহ্য করতে পারছি না। আমরা বড় অসহায় হয়ে থানায় গিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি। আমরা প্রশাসনের কাছে যেকোনো উপায়ে ফারজানার সন্ধান চাই।”

  • আরও পড়ুন

পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

নিখোঁজ গৃহবধূর দেবর শাহপরান অভিযোগ করে বলেন, “আমরা অবুঝ দুটি শিশুকে নিয়ে চরম বিপাকে আছি। তারা সারাদিন শুধু ‘মা মা’ বলে কাঁদছে। এর মধ্যে নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম আমাকে একদিন থানায় আটকে রেখেছিলেন এবং এখনো বাড়িতে এসে নানাভাবে হয়রানি করছেন। আমরা চাই পুলিশ হয়রানি বন্ধ করে দ্রুত আমাদের ভাবিকে উদ্ধার করুক এবং এই ঘটনার পেছনে যদি কেউ জড়িত থাকে, তবে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।”

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

যা বলছে পুলিশ প্রশাসন

যোগাযোগ করা হলে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ নারীর সন্ধান পেতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে বিষয়টি কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে।

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, “নিখোঁজ নারীর কোনো সচল মোবাইল নম্বর পরিবার দিতে না পারায় প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া কঠিন হচ্ছে। এখানে নিখোঁজের শ্বশুরের পরিবার যাকে সন্দেহ করছে সেও বাড়িতে আছে, আবার বাবার বাড়ির পক্ষ থেকে দেবরকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেও বাড়িতেই আছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, টিকটক বা অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমে তৃতীয় কারও সাথে সম্পর্কের জেরে তিনি চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে নিখোঁজ গৃহবধূর সন্ধান পাওয়া গেলেই কেবল প্রকৃত ঘটনা জানা সম্ভব হবে।”

ভয়াবহ এই বিদ্যুৎ বিভ্রান্তি ও লোডশেডিংয়ের মধ্যেও একদিকে মায়ের জন্য দুই শিশুর এই বুকফাটা আর্তনাদ, আর অন্যদিকে পুলিশের ধীরগতির তদন্ত— সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পুরো পরিবারের। অবুঝ দুই শিশুর মুখে হাসি ফটাতে প্রশাসন দ্রুত ফারজানাকে খুঁজে বের করবে, এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *