“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের মুকুট স্পেনের

অতিরিক্ত সময়ে তোরেসের ঐতিহাসিক গোলে স্পেনের বিশ্বজয়

স্পোর্টস ডেস্ক

শুরুটা ছিল হতাশার। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল স্পেন। সেই দলটিই ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফিরে টানা জয়, দুর্দান্ত রক্ষণভাগ এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে পৌঁছে যায় ফাইনালে। আর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে পাওয়া এই জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলে লা রোজা।

ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ছিল স্পেনের। ১২০ মিনিটের খেলায় ৬৫ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য, পুরো ম্যাচে—নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে—আর্জেন্টিনা লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এটাই প্রথম ঘটনা।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

প্রথমার্ধে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। পঞ্চম মিনিটেই লামিন ইয়ামাল ও দানি ওলমোর দারুণ বোঝাপড়ায় গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। তবে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা।

সপ্তম মিনিটে প্রথমবার আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দিকে বাড়ানো বল দ্রুত এগিয়ে এসে ক্লিয়ার করেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।

৩৯ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের পাস থেকে মিকেল ওয়ারজাবালের জোরালো শট দুর্দান্ত সেভে ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ। এরপর কুকুরেয়ার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।

৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন তিনি, তার বদলে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি।

প্রথমার্ধ শেষে বলের দখল, পাস, আক্রমণ এবং গোলের সুযোগ—সব বিভাগেই এগিয়ে ছিল স্পেন।

যে গোলে আর্জেন্টিনার পরাজয়

দ্বিতীয়ার্ধেও ব্যর্থ আর্জেন্টিনা

বিরতির পর লিওনেল স্কালোনি মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামান। কিন্তু মাঠে নেমেই রদ্রিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি।

৫৫ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের শট শেষ মুহূর্তে ব্লক করেন ওতামেন্দি। এরপর একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে স্পেন।

৬২ মিনিটে পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের গতি আরও বাড়ান স্পেন কোচ। ৬৪ মিনিটে দানি ওলমোর দূরপাল্লার শটও ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ।

৭০ মিনিটের পর একাধিক পরিবর্তন আনলেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বরং ইয়ামাল, তোরেস, পেদ্রি ও নিকো উইলিয়ামসের আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা।

৮৭ মিনিটে তোরেসের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। যোগ করা সময়ে নিকো উইলিয়ামসের শক্তিশালী শটও রুখে দেন মার্টিনেজ।

ইনজুরি সময়ের শেষদিকে কুবার্সিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে তিনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এবং ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয়তা, তারপর স্পেনের সোনালি মুহূর্ত

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামস গোল করলেও ভিএআরের সহায়তায় ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়।

অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ১০৬তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। পেদ্রো পোরোর দারুণ ক্রসে নিকো উইলিয়ামসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফেরান তোরেস সহজেই বল জালে পাঠান। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তার এই গোলই স্পেনকে বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেয়।

১১৩ মিনিটে তোরেস আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

শেষ মুহূর্তে মেসির ফ্রি-কিক থেকেও সমতা ফেরাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। সিমিওনে ও সতীর্থদের শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হলে বিশ্বজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন।

  • আরও পড়ুন

ম্যাচের পরিসংখ্যান

  • ফল: স্পেন ১-০ আর্জেন্টিনা (অতিরিক্ত সময়)
  • গোল: ফেরান তোরেস (১০৬’)
  • বল দখল: স্পেন ৬৫% – আর্জেন্টিনা ৩৫%
  • লক্ষ্যে শট: স্পেন একাধিক, আর্জেন্টিনা ০
  • হলুদ কার্ড: ৩টি (লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ)
  • লাল কার্ড: ১টি (এনজো ফার্নান্দেজ – দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে)

বিশ্বকাপের শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়া স্পেন শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল। টুর্নামেন্টজুড়ে সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ফুটবলের পুরস্কার হিসেবে তারা জিতে নিল ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি। অন্যদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফাইনালে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে না পেরে শিরোপা হাতছাড়া করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *