“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে ট্রাম্প-শি’র রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের মধ্যে হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ তিন ইস্যু—নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি—প্রাধান্য পাচ্ছে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তাইওয়ান, ইরান যুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও খনিজ সম্পদ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে হোয়াইট হাউসে ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। বৈঠকের আগে সামরিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের পতাকা প্রদর্শন, সামরিক ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশন এবং যুদ্ধবিমান ও বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমানের উড্ডয়ন প্রদর্শন করা হয়। এরপর দুই নেতা ওভাল অফিসে বৈঠকে বসেন।

বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা

বৈঠকের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আরও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে। বিশেষ করে মার্কিন কৃষক ও খামারিদের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক, বাজার প্রবেশাধিকার এবং প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ এসব উত্তেজনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। চলমান বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও বৈঠকের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

দুই নেতার আলোচনায় প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তি, এআই নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।

ট্রাম্প বৈঠকে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’–সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে শি জিন পিং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

তাইওয়ান ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গ

যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় তাইওয়ান। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের মতপার্থক্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এটি। সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানকে ঘিরে মার্কিন অস্ত্র সহায়তা ও চীনের আপত্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে নিরাপত্তা ইস্যুর আলোচনায় তাইওয়ান প্রসঙ্গ গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শি জিন পিং বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মিত ও গভীর সংলাপের মাধ্যমে দুই দেশ পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ এবং সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থা জোরদারের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধও আলোচনায়

ট্রাম্প-শি বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে আলোচনায় ইরান ইস্যুও তুলতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। একই সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটও দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে রয়েছে।

এক দশকের বেশি সময় পর শি’র যুক্তরাষ্ট্র সফর

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান শি জিন পিং। এক দশকের বেশি সময় পর এটি তাঁর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমন্ত্রণে শি সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফর করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর শি জিন পিং দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে আসা প্রথম চীনা নেতা।

শি’র বর্তমান সফরের আগে গত মে মাসে ট্রাম্প চীন সফর করেছিলেন। এরপর দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও সম্পর্কের ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। বর্তমান বৈঠক সেই ধারাবাহিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • আরও পড়ুন

রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আতিথেয়তা

রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিইউয়ানকে হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আতিথেয়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। নৈশভোজে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প ও শি যখন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন, তখন মেলানিয়া ট্রাম্প চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিইউয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট পরিদর্শন করেন।

সব মিলিয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও মতপার্থক্য অব্যাহত থাকলেও সরাসরি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট।

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *