“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: রাজনৈতিক প্রভাব ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন হাসনাতের

‘জমি দখলের ঘটনা নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের উদাহরণ’

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও দখলের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ ঘটনায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশের কোনো ধরনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। ‘মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র: ১০ কাঠা জমি দখলের জন্য পুলিশ, এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের নেক্সাস’ শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রশ্ন করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও দখলের ঘটনা ঘটে। তাঁর পোস্টে অভিযোগ করা হয়, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অনুসারী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন সেখানে হামলা চালান।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ওই পোস্টে বা প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর পোস্টে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলেছেন ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তিনি দাবি করেন, হামলার সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সামনে পুলিশের দুটি গাড়ি দেখা গেলেও হামলা শুরু হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

পুলিশের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি লেখেন, মিরপুর পুলিশের ডিসি এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করেছিলেন। ওসি তাঁকে জানান, একটি পক্ষের কাছে জমির মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে এবং ওই ব্যক্তিকে ডিসির সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়।

হাসনাতের প্রশ্ন, যদি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকে, তাহলে কোনো পক্ষ কীভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে লোকজন নিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দখল নিতে পারে?

জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের দাবি

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর পোস্টে জমিটির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়েও একটি দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের আগে জমিটি বিহারিদের সম্পত্তি ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর সেটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানায় আসে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জায়গাটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৪ সাল থেকে ওই জায়গায় রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে। পরে ২০০৬ সালে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি’ নামের একটি সংগঠন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জমিটি লিজ নেয় বলে তাঁর পোস্টে দাবি করা হয়েছে।

এ নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের এক নেতার পক্ষ থেকে জমিটিকে পারিবারিক সম্পত্তি দাবি করে মামলা করার কথাও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই পক্ষই বিএনপির—দাবি হাসনাতের

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর পোস্টে দাবি করেন, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতিকে ঘিরে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গেই বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জমির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা পক্ষের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা আদালতের নথির স্বাধীন যাচাই ছাড়া অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

‘মালিকানা নিয়ে মামলা চললে দখল কীভাবে?’

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, কোনো সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা বা রিট চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ নিজেরাই শত শত লোক নিয়ে সেখানে গিয়ে দখল নিতে পারে কি না। তিনি আরও প্রশ্ন করেন, পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে এবং হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে আসার পর পুলিশ কেন সরে গেল।

একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, কোনো পক্ষের কাছে জমির কাগজপত্র থাকলেও আদালতে বিরোধ চলমান অবস্থায় সেই কাগজপত্র কি তাদের নিজেদের উদ্যোগে সম্পত্তির দখল নেওয়ার আইনি অধিকার দেয়?

১০ কাঠা জমির মূল্য নিয়ে দাবি

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর পোস্টে দাবি করেন, মিরপুর-১ এলাকার ওই ১০ কাঠা জমির বর্তমান বাজারমূল্য ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে জমিটির প্রকৃত বাজারমূল্য কত, সে বিষয়ে স্বাধীন কোনো মূল্যায়ন বা সরকারি নথি তাঁর পোস্টে উপস্থাপন করা হয়নি।

তাঁর বক্তব্যের মূল প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসা একটি প্রতিষ্ঠানের জায়গা রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত কি না।

  • আরও পড়ুন

‘শুধু জমি দখলের ঘটনা নয়’

পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যদি ঘটনার সঙ্গে সত্যিই রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পুলিশের কোনো যোগসূত্র থেকে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুধু একটি জমি দখলের অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তাঁর মতে, সে ক্ষেত্রে এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইন ও প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি গুরুতর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করেন।

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনা নিয়ে এরই মধ্যে আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধি বক্তব্য দিয়েছেন। জাগো নিউজের পৃথক প্রতিবেদনে সাদিক কায়েমও ঘটনাটির জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করে অভিযোগ করেছেন। একই ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং কেন্দ্রটির ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *