আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দোয়া করা প্রসঙ্গ
ধর্ম ডেক্স:
প্রশ্ন : যে সকল ব্যাপারে আল্লাহ তা আলা ব্যতীত অন্য কেহ কুদরত রাখে না সে সকল ব্যাপারে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে দুআ – প্রার্থনা করার বিধান কি?
জওয়াব : যে সকল ব্যাপারে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেহ কুদরত রাখেনা। সে সব বিষয়ে আল্লাহ ভিন্ন অন্য কারো কাছে দোয়া- প্রার্থনা করা শিরক আকবর (মারাত্মক শিরক)। যা ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আল্লাহ তা আলা বলেন, “আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবে না, যা তোমার উপকার করে না ক্ষতিও করে না। যদি কর তা হলে তুমি জালিমদের অন-র্ভুক্ত হবে।” (সূরা ইউনুস : ১০৬)
আল্লাহ আরো বলেন, “সে ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান- আর কে যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কিয়ামত পর্যন-ও তাকে সাড়া দেবে না? এবং এগুলি তাদের প্রার্থনা সম্পর্কে বে-খবর।” (সুরা আহকাফ : ৫)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন, “আর তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাক তারা খেজুরের আঁটির আবরণেরও মালিক নয়। তোমরা তাদের ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শোনে না এবং শুনলেও তোমাদের আহ্বানে সাড়া দিতে পারে না। তোমরা তাদেরকে যে শরীক করেছ কেয়ামতের দিন তারা তা অস্বীকার করবে। সর্বজ্ঞের ন্যায় কেউ তোমাকে অবহিত করতে পারে না।” (সূরা ফাতির : ১৩-১৪)
যখন জানলাম গাইরুল্লাহর কাছে দোয়া- প্রার্থনা করা এমন মারাত্মক শিরক যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়, এ কথাও জানতে হবে যে শিরক হল সবচেয়ে মারাত্মক পাপ ও অন্যায়। আর শিরককারী ব্যক্তি চিরদিন জাহান্নামে থাকবে। আল্লাহ অন্যান্য পাপগুলো মাফ করে দিলেও শিরক কখনো মাফ করবেন না। যেমন আল্লাহ তা আলা বলেন, “আল্লাহ কখনো শিরক ক্ষমা করবেন না। এ ছাড়া অন্য গুনাহগুলোকে ক্ষমা করতে পারেন।” (সূরা নিসা : ৪৮)
তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে দোয়া- প্রার্থনা না করা, না ডাকা। তিনিই তো একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, তার হাতেই ভাল-মন্দের সকল ক্ষমতা, তিনিই তো বান্দার ডাকে সাড়া দেন। যেমন তিনি বলেন, “তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন তোমরা আমাকে ডাক আমি সাড়া দিব।” (সূরা গাফির : ৬০,৪৫)
তিনি আরো বলেন, “বল, আল্লাহ ব্যতীত আমরা কি এমন কিছুকে ডাকব যারা আমাদের কোন উপকার কিংবা অপকার করতে পারে না? আল্লাহ আমাদের হিদায়েত দান করার পর আমরা কি আবার পিছনে ফিরে যাব?’’ (সূরা আল- আনয়াম : ৭১)
আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞাত।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119