নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। তারেক রহমান, যিনি একই সঙ্গে সংসদ নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, জানিয়েছেন যে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সুসংগঠিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অগ্রাধিকার এবং আগামী পাঁচ বছরের সামগ্রিক উন্নয়ন রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম-এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনটি পরিচালনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। অধিবেশনের শুরুতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপি-এর নির্বাচনী ইশতেহারে গণতন্ত্র, সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বিত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন সুসংহত করা এবং মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য।
অর্থনৈতিক খাতে উন্নয়নের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দুর্নীতি দমন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
সামাজিক খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সরকার ইতোমধ্যে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন ও পুনঃখনন, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু, এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও উৎসব ভাতা চালু করা। এছাড়া ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও উন্নয়ন, ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান, পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি আত্মমর্যাদাশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”