“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

নারুই বাজারে সালিশের নামে নির্যাতন, দেশজুড়ে সমালোচনা

নবীনগর প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারুই বাজারে গ্রাম্য সালিশের নামে এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদক বিক্রির অভিযোগে অভি মিয়া (৪০) নামের ওই ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নারুই বাজার এলাকায় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভি মিয়াকে মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক করেন। পরে বাজারের মধ্যে তার হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পায়ের তালুতে আঘাত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নির্যাতনের সময় তিনি চিৎকার করে কাঁদছেন। এ সময় আশপাশে উপস্থিত বহু মানুষ ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন এবং অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

  • আরও পড়ুন

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক শ্রেণির মানুষ মনে করছেন, এলাকায় মাদকের বিস্তারের কারণে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই ক্ষোভ থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার ঘাটতির কারণেই সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।”

অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মানিক হায়দার লিখেছেন, “কেউ অপরাধী হলেই তাকে প্রকাশ্যে নির্যাতন করা যাবে না। এটি আইনের শাসনের পরিপন্থী। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম চৌধুরী বলেন, “ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে একজন এসআইকে পাঠানো হয়েছে। ক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে থানায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

তিনি আরও বলেন, “কেউ মাদক বিক্রেতা হোক বা অন্য কোনো ব্যক্তি—তাকে এভাবে হাত-পা বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি জঘন্য কাজ।” নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহল বলছে, অপরাধ দমনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *