নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বিদেশি ক্রেতারা ধীরে ধীরে বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশে ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন উপলক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি আরো জানান, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এক ক্রেতার সঙ্গে আলাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় অনেক ক্রেতা নতুন অর্ডার দিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং বিকল্প হিসেবে ভারতসহ অন্যান্য দেশে ঝুঁকছেন।
তার ভাষায়, ইতোমধ্যে বড় বড় বায়িং হাউসগুলো বাংলাদেশে অর্ডার কমানোর বার্তা দিচ্ছে। আগামী জুলাই-আগস্ট মৌসুমের অর্ডার প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং নতুন অর্ডার আসার গতি ধীর হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের রফতানিমুখী শিল্পে— বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং সময়মতো সরবরাহ দিতে না পারার ঝুঁকির কারণে ক্রেতাদের আস্থা কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কাছে কিছু নীতিগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন বিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, রফতানি আয়ের ওপর উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা উচিত।
ন্যূনতম এক শতাংশ টার্নওভার কর ব্যবসার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে, সেটিও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং রফতানি খাতকে সচল রাখতে কর-সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা জরুরি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস। তবে জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং প্রতিযোগী দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে খাতটি বর্তমানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে রফতানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119