এ বি এম হাবিবুর রহমান
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার একটি গ্রামে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে দুই শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, আর বিচার চেয়ে অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনাটি উপজেলার সভাপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে ২০২৫ দুপুরে এক সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে স্কুলের টয়লেটের পাশে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে—একজন প্রবীণ ব্যক্তি এবং তার নাতি। এ সময় পাশেই থাকা অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ঘটনাটি গোপনে মোবাইলে ধারণ করে।
পরদিন ওই ভিডিওটি কয়েকজন বন্ধুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নজরে আসে। এ ঘটনায় একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
- আরও পড়ুন
- দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসায় ফলাফল ঘোষণা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
- নতুন রূপে মারিয়া মীম, শুক্রবার আসছে ‘রিল রঙ্গিলা’
- খুলশীতে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ
- ‘শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিচ্ছে’—রিজভী
- দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, দুই মাসে খুলছে কালিয়ার বারইপাড়া সেতু
- বাকেরগঞ্জে বালুর বস্তায় রাখা বোমার বিস্ফোরণ: শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত
এরপর থেকেই ভিডিও ধারণকারী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তদের স্বজনরা প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ সেপ্টেম্বর সকালে ওই শিক্ষার্থীর তিন বছর বয়সী সন্তান হঠাৎ নিখোঁজ হয়। তার সঙ্গে খেলতে যাওয়া প্রতিবেশীর পাঁচ বছর বয়সী আরেক শিশুও নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয় একটি পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, শিশুদের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং শরীরে নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়। পরে তাদের দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শোকাহত পরিবার জানায়, ঘটনার আকস্মিকতায় তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়। ঘটনার পর পরিবারটি থানায় মামলা করতে গেলে নানা জটিলতার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রথম দফায় তদন্তে মামলা খারিজ হলেও পরবর্তীতে নারাজি দিলে আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তদন্ত সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং হুমকিমূলক আচরণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে আদালত শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তারা দরিদ্র হওয়ায় আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
গ্রামবাসীর অনেকেই ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত থাকলেও ভয়ে মুখ খুলতে চান না। শিশু হারানো অসহায় বাবা-মা বলেন, “আমাদের সন্তান আর ফিরে আসবে না, আমরা শুধু সঠিক বিচার চাই।” এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119