এ.বি.এম.হাবিবুর রহমান
দাদা-নাতি মিলে ৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের সময়, ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে, অবুঝ দুটি শিশুকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার সভাপুর ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শনিবার (১৬মে) ২০২৫ ইং তারিখে অনু: দুপুর সাড়ে ১২টার সময় মহাদেবপুর থানার বিনোদপুর গ্রামে, বিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোঃ সিরাজুল ইসলামের ছেলে ৮ম শ্রেণির ছাত্র নাহিদ ইসলাম সাগর স্কুলে বসে মোবাইলে ফেইসবুক দেখছিল। এমন সময় সে দেখতে পায় পার্শবর্তী মান্দা থানার অন্তর্গত কাঞ্চন গ্রামের আতোয়ারের মেয়ে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি চুলের স্যাম্পু কিনে বাড়ি ফেরার সময় প্রাইমারি স্কুলের টয়লেটের পাশ দিয়ে যেতেই মৃত তুজির উদ্দীন সরদারের ছেলে (দুঃসম্পর্ক) (দাদা) দানেশ (৫৫) ও শহিদুলের ছেলে (নাতি) রিফাত (২২) মেয়েটিকে টেনে নিয়ে টয়লেটের দিকে নিয়ে যায় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করতে শুরু করে। সেটি ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম সেটি দেখে, ছোট ছেলে হিসেবে সে প্রতিবাদ না করতে পারলেও,টয়লেটের একটি ফুটো দিয়ে, তৎক্ষনিক সেই জোরপূর্বক ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। এরপর রবিবারে সে তার কাছের কিছু বন্ধুদের দেখায়। একপর্যায়ে স্থানীয় মনছেরের ছেলে (ঢাকায় গার্মেন্টস কর্মী) শাহাদত ভিডিওটি দেখার পর খুব অনুরোধ করে ভিডিওটি নেয়। ভিডিওটি নিয়ে সে পরেদিন সোমবারে ফারজানা,অন্তরাসহ আরো কয়েকটি নামের ফেক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছেড়ে দেয়, সাথে সাথে তা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং তা ভাইরাল হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সেই জোরপূর্বক ধর্ষণের ভিডিওটি ভিকটিমের মা-বাবার নজরে আসে। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার শালিশী বৈঠক হয়। একদিকে ধর্ষনকারী দানেশ বুড়ার সাথে বিয়ে দেবে না। অন্যদিকে ধর্ষনকারী রিফাতের সাথে বিয়ে দিতে রাজী হলেও, দাদাও তার সাথে ধর্ষণ করেছে বলে, রিফাতও বিয়ে করতে চায় না। এরপর টাকা-পয়সার দেন-দরবারেও কোনভাবে একমত না হলে,ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে মহাদেবপুর থানায় একটি ধর্ষণের মামলা করেন। যার মামলা নং-১৪/২৫, মহাদেবপুর থানা। মহাদেবপুর থানা পুলিশ ধর্ষক (দাদা,নাতি) দানেশ ও রিফাতকে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে পাঠিয়ে দেয়।
এরপর ঘটনার মোড় নেয় আরেকদিকে,দানেশের দুটি জোয়ান বিবাহিত ছেলে রয়েছে রাজ্জাক ও রাজু তারা প্রতিনিয়ত জোরপূর্বক ধর্ষণের ভিডিও ধারণকারী নাহিদ ইসলাম ও তার বাবা- মাকে হুমকি দিতে থাকে। তাদের ছেলে নাহিদ ভিডিও ধারণ না করলে,তাদের না-কি এতো বড় সর্বনাশ হতো না। তাই তারা সর্বক্ষন সুযোগ খুঁজতে থাকে, এদিকে নাহিদ ও তার বাবা-মা ও খুব সতর্ক ভাবে থাকেন বলে জানান। নাহিদের বাবা-মা কান্না জরিত কন্ঠে জানান, তাদের ৩ বছরের বাচ্চা সব সময় খেলা ধুলা করতো,পাশের এক ৫ বছরের স্থানীয় আজিজুরের নাতি আরাফাত নামের বাচ্চার সাথে। তারা কখনো কল্পনাও করতে পারে নাই এই অবুঝ শিশু বাচ্চাকে মেরে ফেলে তারা এভাবে প্রতিশোধ নেবে।
গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) ২০২৫ ইং তারিখ রোজ সোমবার সকাল থেকে তাদের বাচ্চাকে খুঁজে পাচ্ছে না। আশেপাশের বিভিন্ন জায়গায় তারা খোঁজাখুঁজি করেছে এবং আশেপাশের সকল পুকুরেও খুঁজেছে। ধর্ষক দানেশের বাড়ী কিছু দূরত্ব হলেও, তার ছেলে ও তার ছেলের বউদেরও খুব অনুরোধ করেছে, শিশুটির সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী নাইস আক্তার এবং তাদের কাছে গিয়ে আঁচল পেতে শিশুটিকে ভিক্ষা চেয়েছে কিন্তু তারা সবাই অস্বীকার করে এবং তাদের শিশুরা কোথায় আছে তা তারা জানে না বলে জানিয়ে দেয় শিশুটির মা নাইসকে। অনেক কাকুতি-মিনতি করেও কোন লাভ হয় না,তখন অন্য দিকে খুঁজতে গেলে গ্রামের একজন খবর দেয়, ধর্ষক দানেশের বাড়ির পাশের পুকুরে দুটি বাচ্চার লাশ ভাসছে। এমনটি শুনে শিশুর মা বলে,আমি তো এখনিই খুঁজে আসলাম, সে পুকুরে কিছুই ছিল না। এরপরও সে দৌড়ে গিয়ে দেখেন, দুটি বাচ্চা উপড় হয়ে আছে। তারাতাড়ি করে তুলে নিয়ে দেখতে পান,দুটি শিশুরই গলাতে কালো দাগ এবং শরীরে ক্ষতর চিহ্ন, শিশুদের পেটে কোন পানিও ছিল না। যদিও তখন শিশু দুটি মারা গিয়েছিল বা মেরে ফেলা হয়েছিল এরপরও মায়ের মন,যদি বাঁচাতে পারে এই মনে করে,শিশুকে নিয়ে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান সেখানে দূরত্ব বলে। সেখানে ডাক্তার নাম,ঠিকানা রেজিষ্ট্রেশন করেছেন এবং বলেছেন আর জীবিত নেই। অসহায় মা-বাবা তখন কান্নায় অস্থির, অন্যদিকে গ্রামের লোকজন তারাহুড়া করে, জানাযা করে শিশু দুটিকে কবর দিয়ে দেয়। শিশু হারানোর শোক শেষ না হতেই কয়েকদিনের মধ্যেই ধিরে ধিরে সকল কিছু জানতে পারে, কিভাবে, কখন, তারা তাদের শিশুদের হত্যা করেছে। এরপর তারা মহাদেবপুর থানায় মামলা করতে গেলে,বিভিন্ন তাল-বাহানা দিয়ে মামলা না নিয়ে বার বার হয়রানী করতে থাকে বলে ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের জানায়। এরপর তারা নওগাঁ কোর্টে মামলা করেন যার নং-৯০৮/২০২৫ (মহাদেবপুর) এবং শিশুটির ময়না তদন্ত চান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন। পিবি আই তদন্ত করে, তদন্ত রিপোর্ট আদালতে পেশ করেন এবং সে মতাবেক আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। সেই তদন্ত রিপোর্ট পড়ে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে জানতে পারে, শিশুটিকে ওই দিন অনুমান বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পিবিআই তদন্ত রিপোর্টে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক তার রিপোর্ট পিবিআইকে দিয়েছে আর পিবিআই সে মতাবেক রিপোর্ট তৈরি করেছেন। বাদী নাইস আক্তার মামলাটি নারাজি দিলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।
গত মঙ্গলবার (২জুন) সিআইডি তদন্তে গেলে সাংবাদিকরা সেখানে অনুসন্ধানে যান। পুরো এলাকা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল,অনেকেই কোন কথা বলতে রাজি হচ্ছিল না। এরপরও সিআইডি ও সাংবাদিকরা কয়েক জনের কাছ থেকে কিছু কিছু করে বক্তব্য নিয়ে, জেনে শেষে পাকা রাস্তায় স্কুলের কাছে এলে, ধর্ষক দানেশের দুটি ছেলে বেশ কিছু লোকজন সাথে নিয়ে, প্রথমে ফোনে জোড়ে জোড়ে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলছিল। কথা গুলো ছিল ঠিক এমন ছিল – বার বার কেন পুলিশ, সিআইডি এ গ্রামে আসবে,,? পুলিশেরা কি এতো বড় হয়ে গেছে, এদেরকে এই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলেন,কতবার তদন্ত হবে। তদন্ত তো হয়ে গেছে, আবার কেন তদন্ত করতে আসবে। এরপর ফোন কেটে দিয়ে সিআইডি,র দুজন সদস্যদের বলে,আপনারা কেন এসেছেন, কে আপনাদেরকে আসতে বলেছে? তাদের এমন উত্তেজনাকর কথাবার্তায়, সিআইডি অফিসার মজিবর রহমান খুবই শান্ত মেজাজে তাদেরকে বলেন, একটি মামলার তদন্তের জন্য আদালত আমাদের (সিআইডির) তদন্তের জন্য বলেছেন। তাই আমরা আদালতের নির্দেশ মতাবেক তদন্তে এসেছি বা আবারও আসবো,সেটা গোপনেও আসতে পারি,প্রকাশ্যেও আসতে পারি। কিন্তু আপনাদেরকে তো ডিসটার্ব করছি না বা আপনাদের ডাকও দেয় নাই বা আপনাদের বাড়িতেও যাই নাই। এরপরও আপনারা আমাদের উপর উগ্রতা করছেন কেন? আজকের মত তদন্ত করেছি এখনিই এই সিএনজি নিয়েই চলে যাবো আমরা। এসব বলে সিআইডি অফিসার চলে যাওয়ার সাথে সাথে বাদীদের উপর মারমুখি ও হিংস্র হয়ে উঠে বিবাদীরা। এরপর বাদীরাও সেখান থেকে ধিরে ধিরে থেকে চলে যায় সেখানে চলে যায় । এরপরও ধর্ষক দানেশসহ তার ছেলেরা গলা ফাটিয়ে তাদেরকে হত্যার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলে। দানেশের বংশধরা কোন পুলিশ, সাংবাদিক, আইনকানুন কোন কিছুই নাকি তাদেরকে কিছু করতে পারবে না। গত বুধবার (১০ জুন) আদালত শিশুটি ময়না তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীরা গরীব,তারা সংখ্যাও কম,, তবে ঘটনা সত্য বলার লোক অনেক আছে কিন্তু তারা আসামিদের ভয়ে প্রকাশ্যে কোন কিছুই বলতে নারাজ। এরপরও আল্লাহ উপর ভরসা করে আছে শিশুটির অসহায় মা-বাবা। তারা বলেন,ছেলেকে তো আর কোনদিন ফিরে পাবে না,শুধু প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার চান তারা।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119
https://shorturl.fm/pOulO
https://shorturl.fm/3io1I
https://shorturl.fm/QapMv
https://shorturl.fm/tViXo
https://shorturl.fm/DGp8b
https://shorturl.fm/p0oHB
https://shorturl.fm/i2PKF
https://shorturl.fm/FfwnN
https://shorturl.fm/05Dn7
https://shorturl.fm/hnZaO
67iyw9
https://shorturl.fm/5bn4A