“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম

অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হোক

প্রতি বছর ১ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস তথা মে দিবস। ১৮৮৬ সালের শিকাগো শহরের হে মার্কেট আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাস শ্রমিকের অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে আছে। শ্রমঘণ্টা সীমিত করা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করার দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন আজও প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশে শ্রমিক শ্রেণি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পোশাক শিল্প, নির্মাণ, পরিবহন, কৃষি-সব ক্ষেত্রেই শ্রমিকের ঘাম ঝরে।

কিন্তু তাঁদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা এখনো নিশ্চিত হয়নি। গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে শুরু করে দিনমজুরের দৈনন্দিন সংগ্রাম-সবই প্রমাণ করে শ্রমিকের অধিকার এখনো অরক্ষিত। মে দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না হলে উৎপাদন বাড়লেও সামাজিক বৈষম্য বাড়বে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ না থাকলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অব্যাহত থাকবে। শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষা না থাকলে তাঁদের জীবন অনিশ্চয়তায় ভরপুর থাকবে। বাংলাদেশে শ্রম আইন আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন দুর্বল। অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দেয় না, ওভারটাইমের যথাযথ হিসাব রাখে না, নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোও নানা সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শ্রমিকের প্রকৃত দাবি চাপা পড়ে যায়। আমরা মনে করি, মে দিবস শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার। সরকারকে শ্রম আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। শ্রমিকের ঘামেই গড়ে ওঠে অর্থনীতি। তাই মে দিবসের বার্তা হলো-শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত না করলে উন্নয়ন কখনোই পূর্ণাঙ্গ হবে না। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই হবে প্রকৃত অর্থে জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *