নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় ও আনন্দঘন সময় কাটিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিভিন্ন সরকারি শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানের শিশুরা।
রোববার (৩১ মে) অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ঈদের আনন্দ থেকে পিছিয়ে থাকা শিশুদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিক সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মিরপুর শিশু পরিবার (বালক), তেজগাঁও শিশু পরিবার (বালিকা), আজিমপুর ছোটমণি নিবাস এবং শিশু বিকাশ কেন্দ্রের শিশুরা। মন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কুশল বিনিময় করেন, তাদের ঈদ উদযাপনের অভিজ্ঞতা শোনেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলাপ করেন। শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মন্ত্রী নিজ হাতে শিশুদের আপ্যায়ন করেন। তাদের জন্য মৌসুমি ফল, বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার ও বিশেষ আয়োজন রাখা হয়। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি তাদের খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথাও শোনেন। এ সময় উপস্থিত শিশুদের অনেকেই তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানায়, এমন একটি আয়োজন তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। তারা মন্ত্রীর সান্নিধ্য, আন্তরিকতা এবং স্নেহপূর্ণ আচরণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো আনন্দ ও সম্প্রীতি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। তাই তাদের নিরাপদ, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন, “প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিশুদের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. শরীফা করিম স্বর্ণা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঈদ পরবর্তী এই মানবিক আয়োজন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে আনন্দ, ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের কল্যাণে সরকারের অব্যাহত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119