এ.বি.এম. হাবিবুর রহমান
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় সরকারি রাস্তার ধারের গাছ কেটে নিজ মালিকানাধীন স-মিলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে বন বিভাগ, যারা ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবারের ঝড়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা দুটি ঘোড়ানিম গাছ রবিবার (৩১ মে) দুপুরে উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের রসুলপুরগামী সরকারি সড়কের পাশ থেকে কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে গাছ দুটি আমজাদ হোসেনের মালিকানাধীন স-মিলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
- আরও পড়ুন
- তাড়াশে পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
- প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
- ধমকিয়ে-পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না: মির্জা ফখরুল
- বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির বিশ্বমানের বাস্কেটবল কোর্টে মুগ্ধ ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা
- আজ বুধবার ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৪৭
- নওগাঁয় সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগে বিএনপি নেতা বিতর্কে, তদন্তে বন বিভাগ
এছাড়া একই ইউনিয়নের খর্দ্দনারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন রাস্তার ধারে থাকা একটি বড় আকারের শিশু গাছও কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়দের বাধার মুখে গাছটির গুঁড়ি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তা ঘটনাস্থলেই পড়ে রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা হারুন রশীদ বলেন, “ঘটনাটি আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারের এসব গাছ পথচারীদের ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। সরকারি অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় সরকারি সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “আমি কোনো সরকারি গাছ কাটার নির্দেশ দিইনি। আমার ব্যবসায়িক অংশীদার আশরাফ কয়েকজনের কাছ থেকে গাছ কিনে স-মিলে এনেছেন।” তবে তার ব্যবসায়িক অংশীদার মো. আশরাফ আলী ভিন্ন দাবি করে বলেন, “আমজাদ ভাইয়ের নির্দেশেই শ্রমিক দিয়ে গাছ কেটে স-মিলে আনা হয়েছে। গাছগুলো কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
এদিকে ১০ নম্বর ভীমপুর ইউনিয়ন যুবদলের নেতা ইরশাদ হোসেন বলেন, “গাছগুলো রাস্তার পাশে পড়ে ছিল। আমাদের একজন সদস্য মিন্টু হয়তো সেগুলো বিক্রি করেছেন।” তবে বন বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করা হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন। মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রবিউল আলম বুলেট বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “সংবাদ পাওয়ার পর বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে কাটা গাছের গুঁড়ি পাওয়া গেছে। সরকারি নিয়ম না মেনে রাস্তার ধারের গাছ কেটে নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।” তিনি আরও জানান, বন বিভাগের আওতাধীন গাছের গুঁড়িগুলো জব্দ করে অফিসে নেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বন কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে ভোগ বা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে সরকারি গাছ ও সম্পদ দখলের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119