“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

রামিসা হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট সরকার, দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

“দেশের ইতিহাসে বিরল গতিতে বিচার সম্পন্ন হয়েছে, উচ্চ আদালতেও রায় বহাল থাকবে বলে আশা”

নিজস্ব প্রতিবেদক

রামিসা হত্যা মামলার নিম্ন আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এই বেদনাদায়ক ঘটনায় আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে সরকার আপাতত সন্তুষ্ট। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে।

আজ রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রামিসা হত্যাকাণ্ড বিষয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, “রামিসার মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো জাতি শোকাহত ছিল। আমরা তাকে আর ফিরিয়ে আনতে পারব না, তার বাবা-মায়ের কাছেও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে।”

  • আরও পড়ুন

তিনি জানান, ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতের ছুটি থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং প্রধান বিচারপতির সম্মতির ভিত্তিতে শিশু ট্রাইব্যুনালকে ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়, যার ফলে বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “১ জুন অভিযোগ গঠনের পর কার্যত মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এটি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। উপমহাদেশে এমন দ্রুত বিচার খুব কমই দেখা গেছে।”

রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে তিনি বলেন, “সাত দিনের মধ্যেই মামলার নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় পেপারবুক প্রস্তুতের পর বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। আমরা চাই মামলাটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি হোক।” আসাদুজ্জামান আরও জানান, এ বিষয়ে তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “মেজর সিনহা হত্যা মামলা ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। রামিসা হত্যা মামলাটিও যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

রায় কার্যকরে বিলম্বের কারণে সমাজে অপরাধ বাড়ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “রায়ের বাস্তবায়নে বিলম্ব অবশ্যই হতাশার একটি কারণ হতে পারে। তবে শুধুমাত্র এটিই এমন অপরাধ বৃদ্ধির একমাত্র কারণ নয়।

রামিসার হত্যাকারী সোহেলের কর্মকাণ্ড থেকেই বোঝা যায়, সে একজন পরিকল্পিত ও মানসিকভাবে বিপজ্জনক অপরাধী।” তিনি বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরও বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে মামলার নথিতে না থাকা আরেকজনকে জড়ানোর চেষ্টা করেছে।

তার উদ্দেশ্য ছিল বিচার বিলম্বিত করা এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া। তবে সরকার ও আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দৃঢ় অবস্থানে ছিল।” সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকরের মাধ্যমে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *