“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

টিকটকে পরিচয়,ইমুতে দেহ দেখিয়ে এক প্রবাসীর সর্বস্ব লুট,প্রবাসেই আত্মহত্যা

এ.বি.এম.হাবিবুর রহমান

নিজের কালো চেহারাটাকে টিকটকে গোলাপি বানিয়ে অপরুপ সুন্দরী সেজে,এক প্রবাসীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তার সর্বস্ব লুট করে নিয়েছে স্বপ্না নামের এই মেয়েটি। স্বর্বস্ব লুট করার পর, সে কাকুতি-মিনতি করলে তাকে মরে যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে এই মেয়েটি, সর্বশেষে প্রবাসেই জীবন দিতে হলো এক রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে। জানা যায়, তার কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা বিভিন্ন কৌশলে ও বিভিন্ন অজুহাতে হাতিয়ে নিয়েছে এই টিকটকার স্বপ্না। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার মৈনম গ্রামে। বিয়ষটি নিয়ে এলাকাবাসীর ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, এভাবে মেয়েটি আগেও এক কাতার প্রবাসীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে, প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আদায় করে তাকেও তালাক দিয়েছে। যার গ্রামের বাড়ি মহাদেবপুর থানার উত্তরগ্রামের আব্দুর ছাত্তারের ছেলে লুৎফর রহমান বলে জানা যায়। সেখানে গিয়ে লুৎফর রহমান এর দেখা না পেলেও,তার আত্বীয়রা জানান, ঐ মেয়ে (স্বপ্না) সহ তার বাবা-মা ও তার ভাই এই প্রতারণার সাথে জড়িত। তারা নিঃস্ব করে ফেলেছে লুৎফরকে। ২০ লক্ষ টাকা নেওয়া শেষ, এরপরের দিনই তালাকনামা পাঠিয়ে দিয়েছিল। এরা এই ব্যবসায় করে। তারা দুঃখ করে বলেন,বাংলাদেশে কি এমন কোন আইন নেই, এসব মেয়েদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার,,? তারা এই প্রতারণাকারী স্বপ্না ও তার পরিবারের কঠিন শাস্তির দাবী করেন।

  • আরও পড়ুন

স্বপ্নার আশেপাশের লোকজন জানায়, এই গ্রামের ও তার আশেপাশের গ্রামের ছেলে-পেলেদেরও ইমুতে দেহ দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকে। মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন জায়গার লোকজন এসে, এ বিষয়ে গুলো নিয়ে শালিশ-দরবার করে, কখনো অর্ধেক টাকা ফেরত দেয় আবার অনেককে টাকা ছাড়াই ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদায় করে দেয় তারা। গত কিছু দিন আগে উজ্জ্বল নামের এক হিন্দু ছেলেকে ফাঁসিয়ে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল, লোকজন এসে হৈচৈ শুরু করলে ১ লক্ষ টাকা ফেরত দেয়,বাঁকী ২ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার তারিখ দিয়ে বিদায় করে দেয় তাদেরকে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানান, উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বৃম্মত্তপাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে সোহেল রানা গত ২০২২ সালে একটু স্বচ্ছল জীবন-জীবিকার উদ্দ্যেশে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। প্রথম অবস্থায় কষ্টে কাটলেও পরবর্তীতে রাজধানী কুয়ালালামপুরের অদুরে কাজাং এলাকায় ভালো বেতন ও ভালো মালিকের অধীনে কাজ পায় সে। ভালোই চলছিল তাদের জীবন। এরমধ্য কোন এক মাধ্যম দিয়ে, সিন্ডিকেট সদস্য মারুফা আক্তার স্বপ্নার টিকটক আইডির লিং ও মোবাইল নম্বর পায় সে। সেই থেকে শুরু হয় কথাপকথন। এরপর ইমুতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রদর্শন করে মাতিয়ে দেয় সোহেল রানাকে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে প্রতিমাসে ১০ হাজার, ২০ হাজার করে টাকা নেওয়াও শুরু করে দেয় স্বপ্না। এক পর্যায়ে তাকে বিয়ে করার জন্য শরীর দেখিয়ে আকর্ষণ ধরায়। কিন্তু সোহেল রানা মালয়েশিয়ায় অবৈধ থাকার কারণে বা বৈধ কাগজপত্র না থাকায়, দেশে আসতে পারে না। সে ক্ষেত্রে মোবাইলে বিয়ের করার জন্য চাপ দেয় সোহেলরানাকে, নইলে তার মা-বাবা অন্যত্র বিয়ে দেবে বলে জানিয়ে দেয়।

এক প্রকার বাধ্য হয়েই মোবাইলে বিয়ে করে এবং তাতে ৪ লক্ষ টাকা দেন-মোহর বাঁধে স্বপ্না। ভুক্তভোগীরা জানায়, এ সবকিছুতে জড়িত আছে স্বপ্নার ভাই ও বাবা মা। তারা গরুর ফার্ম করবে বলে সোহেলরানার বোনের কাছ থেকে প্রথমে ৪ লক্ষ ও পরে ১ লক্ষ টাকা ক্যাস নেয়, যা সোহেলরানা দিতে বলে।এই টাকা গুলো না দেওয়ার জন্য, সাবিনা তার ভাইকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে, কিন্তু প্রবাসী সোহেলকে এতোটাই মাতিয়ে ফেলেছে প্রতারক স্বপ্না,সে কিছুই বুঝতে চায় না,তাই বোন স্বপ্না টাকা গুলো দিতে বাধ্য হয়ে যায়। অন্যদিকে সোহেলরানার কাছ থেকে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে নেয় এই প্রতারণাকারী মেয়ে। সর্বমোট সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা নেওয়ার কয়েকদিন পর গত (৪ জুন) ২০২৬ ইং তারিখে হঠাৎ করে ইমুর মাধ্যমে তালাক নামা পাঠিয়ে দেয় সোহেলরানার কাছে। তালাক নামা পেয়ে ইমুতে ফোন দিয়ে স্বপ্নার কাছে অনেক কাকুতি-মিনতি ও কান্নাকাটি করে সোহেলরানা।

কিন্তু পাষানির উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন, তাই তার কোন কথাকে পাত্তা না দিয়ে তাকে মরে যেতে বলে বার বার। এরপর সোহেল রানা তার বোনকে ফোন দিয়ে বলে,স্বপ্নাদের বাড়িতে যাও,সে কেন তাকে তালাক দিয়েছে, তার সাথে আর ভালো করে কথা বলছে না স্বপ্না। খুব অনুরোধ করলে, সোহেলরানার বোন সাবিনা,বড়ভাবী তাসলিমা ও খালাতো ভাই রবিন তাদের বাড়ীতে যায়। তাদের বাড়ীতে গেলে, তাদের সাথেও খুব খারাপ আচরণ করতে শুরু করে স্বপ্নাসহ তার মা-বাবা ও তার ভাই এবং বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে বার বার। সোহেলরানার বড়বোন সাবিনা তাদেরকে বলেন,আপনারা এমন করলে তো আমার ভাইকে বাঁচানো যাবে না। টাকা গুলোও তো নিয়ে নিয়েছেন, তাহলে এখন আমার ভাইয়ের কি হবে,এমন কথা শুনে স্বপ্না বলে, তাকে মরে যেতে বলেছি। মরে গেলেই তো কোন ঝামেলা হবে না। আপনারা চলে যান বাড়ী থেকে, আপনাদের সাথে আর কোন সম্পর্ক নেই।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

এরপর স্বপ্নারা বাহিরে বের হলেই প্রতিবেশীরা জানায়,কেন এই মেয়েকে আপনার ভাই বিয়ে করেছে,এরা এভাবে বহু মানুষদের ধংশ করেছে,বহু পরিবারকে নিঃস্ব করেছে। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন ধরনের লোকজন এসে এখানে চিল্লাচিল্লি করে। কাহারো যদি শক্ত কোন নেতা থাকে,তারপরও অর্ধেক টাকা ফেরত দেয়, আর কাহারো কেউ না থাকলে, কোন টাকা ফেরত দেয় না, ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। তাদের এসব কথা শুনে সাবিনা সহ সকলের মন খারাপ হয়ে যায়। তারা বাড়ীতে ফিরে আসে। এরপর রাতে বৃষ্টি, বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক না থাকায় ভাই সোহেলরানার সাথে যোগাযোগ করতে পারে না তারা। অন্যদিকে মারুফা আক্তার স্বপ্নার সাথে ইমুতে খুব কান্নাকাটি করে সোহেলরানা। কিন্তু কিছুতেই পাষনি,ছলনাময়ী স্বপ্নার মন গলে না। শুধু তাকে মরে যেতে বলে বার বার। এতে ইমুতে স্বপ্নাকে লাইনে রেখেই মালয়েশিয়া প্রবাসী সোহেলরানা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এলাকাবাসী সহ সচেতন মহল সকলেই এই ছলনাময়ী প্রতারক স্বপ্না ও তার পরিবারের সকলের শাস্তির দাবী করেন।

এ বিষয়ে টিকটকার প্রতারক স্বপ্নার কাছে জানতে চাইলে,সে সবকিছু অস্বীকার করে বলে,আমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছি,তার সাথে আমার সম্পর্ক শেষ। বিয়ে এবং ডিভোর্সের কাগজপত্র দেখতে চাইলে সে বের করে সাংবাদিকদের দেখায়। সেখানে দেখা যায়, ৫ নং বিশা ইউনিয়ন আত্রাই নওগাঁ। আব্দুর রাজ্জাক কাজীর মাধ্যমে কাগজে বিয়ের তারিখ আছে ০৬-০৪-২০২৬ ইং। অর্থাৎ মাত্র ২মাস আগে বিয়ে হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতদিনে বিয়ে হয়েছে রোজার ১২ দিন পূর্বে,অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৫ মাস পূর্বে তাদের বিয়ে হয়েছে। এই কাগজেও দিন,তারিখ সঠিক দেয় নাই। আর তালাক দিয়েছে ০৪-০৬-২০২৬ ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার। এখানেও ধোয়াসা রেখেছে প্রতারক টিকটকার স্বপ্না। এ বিষয়ে এলাকার সর্ব মহল এই টিকটকার প্রতারক স্বপ্না নামের মেয়েটির শাস্তির দাবী করেন।

উক্ত ঘটনার রেশ ধরে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে উঠে আসে এক ভয়ঙ্কর তথ্য। উপজেলার মৈনম ইউনিয়নে সারা দেশের ন্যায়, একটি সিন্ডিকেট বহুদিন ধরে টিকটক করে দেশের বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেদের ইমুতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দেখিয়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে আসছে। সেই সিন্ডিকেটেরই একেক জন সদস্যের, একেকটি দ্বায়ীত্ব থাকে। প্রথমে এসব চরিত্রহীন মেয়েরা সুন্দর করে সেজে গুজে টিকটক করে।পরবর্তীতে সিন্ডিকেটের সদস্যরা দেশের ও দেশের বাহিরে অর্থাৎ প্রবাসীদেরকে এসব টিকটকের মেয়ের, টিকটক দেখায় এবং তাদের কাছে ওই মেয়েটির মোবাইল নম্বর আছে বলে জানায়। তখন আগ্রহ করে উঠতি বয়সের ছেলেরা বা প্রবাসীরা তা লুফে নেয়। এরপর শুরু হয় তাদের মধ্যে কথাবার্তা ধিরে ধিরে ইমুতে, এরপর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রদর্শন, শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন লোভনীয় প্রতারণা আর সেই প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব সিন্ডিকেট চক্র। সর্বশান্ত করে দিচ্ছে প্রবাসীদের।

পরবর্তীতে কোন আইনি পদক্ষেপ নিতেও পারেন না সম্মানের ভয়ে। এ থেকে পরিত্রান পেতে সচেতন মহল মনে করেন, সকলকে সচেতন হতে হবে এবং তার সঙ্গে আইনের সঠিক প্রয়োগ ও সঠিক বিচার ব্যাবস্থা নিশ্চিত হলেই এ থেকে সমাজ পরিত্রান পেতে পারে বলে মনে করেন।
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খোরশেদ আলম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন,ভিকটিমের লাশ এখনো দেশে আসে নাই, ভুক্তভোগীদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *