“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

সরাইলে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় নারী ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার, এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য জুরবানু বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার অরুয়াইল বাজার এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জুরবানু বেগম সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার নম্বর DR (১১১৪৬)(০)১, যা ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রুজু করা হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

  • আরও পড়ুন

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত জুরবানু বেগম বিভিন্ন প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে উঠতি বয়সী তরুণী, বিশেষ করে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে উৎসাহিত করতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তরুণীদের ছবি দিয়ে যৌন উত্তেজক ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রলুব্ধ করার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন এবং এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ প্রচলিত থাকলেও তার প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। যদিও এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখনো পাওয়া যায়নি।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মামলার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সরাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *