নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি মাসের শুরুতেই বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিশেষ করে অফলাইন মিটার ব্যবহারকারীদের রিচার্জ করতে গিয়ে ২০০ ডিজিটের দীর্ঘ টোকেন নম্বর প্রবেশ করাতে হচ্ছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য হয়ে উঠেছে দুর্ভোগের কারণ। গ্রাহকদের অভিযোগ, এত দীর্ঘ টোকেন ইনপুট দিতে গিয়ে বারবার ভুল হচ্ছে। একটি সংখ্যা ভুল হলেই পুরো প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে হচ্ছে, ফলে সময় ও ধৈর্যের বড় পরীক্ষা দিতে হচ্ছে ব্যবহারকারীদের।
বয়স্ক ও প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০০ ডিজিটের নম্বর দিতে গিয়ে বহুবার ভুল করেছি। শেষে অন্য একজনের সাহায্য নিতে হয়েছে। এত বড় টোকেন দেওয়া সত্যিই কষ্টকর। রায়েরবগেরএক মাদ্রাসার মুহ্তামীম হাফেয মাওলানা মারুফ বিল্লাহ জানান আমি দুই থেকে তিন বার চেস্টা করে অপারক হয়ে পরে আমাদের মাদ্রাসার এক ছাত্রের বাবাকে দিয়ে মিটারে টাকা ভরিয়েছি, সরকারের কাছে অনুরোধ এই ভোগান্তি থেকে আমাদের মুক্ত করুন।
- আরও পড়ুন
- তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধে দাওয়াতে তাবলীগের ভূমিকা

- বিদ্যুতের দাম বাড়তেই প্রিপেইড মিটারে ভোগান্তি: ২০০ ডিজিটের টোকেনে নাকাল গ্রাহক

- বটিয়াঘাটার রামভদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন

- সরাইলে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় নারী ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার, এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা

- মামলার ‘ব্যবসা’ করছে বিএনপির স্থানীয় নেতারা—রুমিন ফারহানার অভিযোগ

- আনভীর বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সহায়তা পেলেন কাঙালিনী সুফিয়া

রায়েরবগের এক গৃহিণী মনোয়ারা বলেন বিদ্যুৎএর দাম বাড়ে এইটা আমার বহন করি, ডিজিটাল যে মিটার হাসিনা সরকর দিয়েছে সেই মিটারে টাকা ভরতে গ্রাহকের মোবাইলে ২০০ ডিজিটের টোকেন নম্বর আসে সেই নাম্বার ভরতে যে কী যালা তাতো তারা বুঝেনা বুঝবেকী করে তারাতো কাজের লোকদের দিয়ে ভরায়। আমাদের দেশের সরকার আছে শুধু বিদ্যুৎ বিল আদায় করার জন্য গ্রাহকের সুজোগ সুবিধা দেখার কেউ নাই।
কেন এই ভোগান্তি?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যেসব প্রিপেইড মিটার অনলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ট্যারিফে আপডেট হয়ে যায়। কিন্তু অফলাইন বা নন স্মার্ট মিটারগুলোতে নতুন ট্যারিফ কার্যকর করতে বিশেষ টোকেন নম্বর প্রবেশ করাতে হয়। ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির ডেসকো এক কর্মকর্তা জানান, আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ৭টি স্লাব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আপডেট মিলিয়ে মোট ১০টি টোকেন তৈরি হয়। প্রতিটি টোকেন ২০ ডিজিটের হওয়ায় মোট সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২০০ ডিজিট। বিদ্যুৎ বিভাগের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, নন স্মার্ট মিটারগুলো সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত নয়। তাই নতুন ট্যারিফ বুঝতে মিটারকে লার্ন করাতে হয়। এই কারণেই এতগুলো টোকেন দিতে হয়।
পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি
২০১৫ সালে প্রিপেইড মিটার চালুর পর থেকে প্রায় প্রতিবার ট্যারিফ পরিবর্তনের সময়ই অফলাইন মিটার ব্যবহারকারীরা একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবসম্মত নয়। বুয়েটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডক্টর ইজাজ হোসেনের মতে, ২০০ ডিজিটের টোকেন দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অযৌক্তিক। দ্রুত এর বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত।
সমাধান কোথায়?
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হলো—সব অফলাইন মিটার ধাপে ধাপে পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক স্মার্ট মিটার স্থাপন করা। পাশাপাশি যেসব স্মার্ট মিটার কারিগরি ত্রুটির কারণে অনলাইনে যুক্ত হতে পারছে না, সেগুলোর উন্নত প্রযুক্তিগত সমাধান জরুরি।
তবে এই রূপান্তর সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও পর্যাপ্ত বাজেট ছাড়া তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
গ্রাহকদের জন্য নির্দেশনা
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ায় গ্রাহকদের মিটারে ২০০ বা তার বেশি ডিজিটের টোকেন আপডেট করতে হবে। এ বিষয়ে নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে গ্রাহকরা নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
বিশ্লেষণ: বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি যেমন গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে, তেমনি প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তৈরি হয়েছে নতুন ভোগান্তি। দ্রুত স্মার্ট মিটার ব্যবস্থার পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে এ সমস্যা বারবারই ফিরে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119