“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল: চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল (বর্তমানে ৫০০ শয্যায় উন্নীত)–এর এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসাসেবা দিতে অবহেলা এবং রোগীর সঙ্গে অশোভন আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আতিকুল বারীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী রোগী ইতোমধ্যে হাসপাতালের মেডিকেল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুন তিনি হঠাৎ তীব্র কানের ব্যথা অনুভব করলে চিকিৎসার জন্য উক্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে টিকিট কেটে ডা. আতিকুল বারীর কক্ষে প্রবেশ করেন। চিকিৎসক তার সমস্যার কথা শুনে কিছু ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট স্থানে পরীক্ষা করানোর জন্য তাকে একটি কার্ড দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী জানান, তিনি হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করালেও এক্স-রে করার জন্য চিকিৎসকের নির্দেশিত একটি নির্দিষ্ট ‘হিয়ারিং কেয়ার সেন্টার’-এ গেলে সেখানে ১৫০০ টাকা খরচের কথা বলা হয়। আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে তিনি সেখান থেকে ফিরে এসে পরবর্তীতে ‘ফাস্ট কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ পরীক্ষা করান।

এরপর ৪ জুলাই রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় চিকিৎসকের কাছে গেলে ডা. আতিকুল বারী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ওই রিপোর্ট দেখতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রোগীকে তিরস্কার করে বলেন—“আমি যেখানে করতে বলেছি, সেখান থেকেই করতে হবে। এই রিপোর্ট আমি দেখবো না”—এবং তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেন। এতে ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং কান্নাজড়িত অবস্থায় হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

  • আরও পড়ুন

ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের নির্দিষ্ট কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকরা তাদের নিজস্ব চেম্বারেও রোগীদের যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে কথা বললে পরীক্ষার ধরন নিয়েও অসঙ্গতি দেখা যায়। এক পক্ষ ‘হিয়ারিং টেস্ট’-এর কথা বললেও অন্য পক্ষ ‘এক্স-রে’-এর কথা উল্লেখ করে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডা. এম. এ. আবুল বাসার বলেন, “কোনো চিকিৎসকের এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এ সময় ভুক্তভোগী আনুষ্ঠানিকভাবে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, “রোগীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং নির্দিষ্ট স্থানে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. আতিকুল বারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডা. আতিকুল বারী ২০১৭ সালে এই হাসপাতালে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করলেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ে ম্যানেজ হয়ে যায়।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

সচেতন মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জে সরকারি হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসাসেবার মান দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসা সেবাকে কেন্দ্র করে কমিশনভিত্তিক বাণিজ্য এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সেবার মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *