“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

কমলনগরের হাজি বাড়ির মিলনের আকস্মিক জামায়াতে যোগদান, রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড়

​কবির হোসেন রাকিব
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

​দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার পরিচিত মুখ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, হাজিরহাটের ঐতিহ্যবাহী হাজি বাড়ির আক্তার হোসেন মিলন মিয়া হঠাৎ করেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। তার এই আকস্মিক রাজনৈতিক দলবদলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

​দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আক্তার হোসেন মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এ সময় স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে দলে স্বাগত জানান।

  • আরও পড়ুন

​এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
​মিলন মিয়ার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর থেকেই পুরো এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—সবখানেই এখন এটিই প্রধান আলোচনার বিষয়। ​সমালোচকদের বক্তব্য: স্থানীয়দের একটি বড় অংশের মতে, মিলন মিয়ার আগের রাজনৈতিক আদর্শ বা সামাজিক অবস্থানের সাথে জামায়াতের আদর্শের কোনো মিল ছিল না। তার এই আকস্মিক দলবদল কেবলই কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক কৌশল।

​সমর্থকদের দাবি:
অন্যদিকে মিলন মিয়ার অনুসারীদের দাবি, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং স্বাধীনভাবে জনসেবা করার লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অধিকার।

​যোগদান প্রসঙ্গে মিলন মিয়ার বিস্ফোরক বক্তব্য
​এই বিষয়ে আক্তার হোসেন মিলন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দলবদলের পেছনের মূল কারণ খোলামেলাভাবে প্রকাশ করেন। কিছুটা ক্ষোভ ও অভিমান প্রকাশ করে তিনি বলেন ​”আমি কোনো প্রলোভন বা চাপের মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নিইনি। এতদিন বিএনপির কিছু লোক আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘জামায়াত’ বলে অপবাদ দিত এবং প্রতিনিয়ত কথা শোনাত। যেহেতু তারা আমাকে জামাত বলেই প্রচার করত, তাই আমি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতেই যোগদান করেছি।”

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

​তিনি আরও যোগ করেন, “দেশের কল্যাণে এবং সুশৃঙ্খল রাজনীতির অংশ হতে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা এখন সমালোচনা করছেন, আশা করি আমার ভবিষ্যৎ সমাজসেবামূলক কাজ দেখলেই তাদের ভুল ভেঙে যাবে।” ​কমলনগর উপজেলার হাজি বাড়ির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্যের এমন জেদ ও পাল্টা সিদ্ধান্ত আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে—তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *