নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান অভি এবং শাকিল ওরফে টুন্ডা শাকিল গ্রেপ্তারের পর রহস্যজনকভাবে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। শীর্ষ এই দুই অপরাধী অর্থের বিনিময়ে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে আসার পর তাদের সহযোগীরা এলাকায় পুনরায় প্রকাশ্যে মহড়া দিতে শুরু করেছে। এতে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার একাংশের সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
থানায় মামলা ও পুলিশের জিরো টলারেন্স অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ শে জুন নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া, লিংক রোড, সিদ্ধিরগঞ্জ ও সাইনবোর্ড এলাকায় সন্ত্রাসী আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘটনার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং- ৫১/৬/২৬)। মিছিলের পর সন্ত্রাসীদের দমনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সির কঠোর নির্দেশনায় এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান অভিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশি অভিযানের মুখে তার অন্য সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যায়।
আইনের ফাঁকফোকরে মুক্ত শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল হোতা হাবিবুর রহমান অভি এবং তার অন্যতম সহযোগী শাকিল ওরফে টুন্ডা শাকিল গ্রেপ্তারের কিছুদিন পরেই বিভিন্ন কৌশলে ও বিপুল অর্থের বিনিময়ে জামিন পেয়ে যায়। তারা কারাগার থেকে বের হওয়ার পর এলাকায় তাদের পুরো সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
অধরা সহযোগীদের তালিকা ও প্রকাশ্যে মহড়া
অভি ও শাকিল জামিনে আসার পর আত্মগোপনে থাকা তাদের অন্য সহযোগীরাও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরতে শুরু করেছে। বর্তমানে এলাকায় যেসকল চিহ্নিত অপরাধী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম:
- রবিন (৩২), পিতা: মনু মিয়া
- নূর হোসেন নুরা (৩০), পিতা: হাসান আলী মিয়া (চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী)
- কাজী শাওন (৩৮), পিতা: কাজী দৌলত
- পিস্তল রাসেল ওরফে ইশ্কা রাসেল (৩০), পিতা: ইসহাক আলী
আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী রাজত্ব ও টর্চার সেল
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বিগত ১৬ বছর ধরে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের স্থানীয় গডফাদার হিসেবে পরিচিত আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙিয়ে এই চক্রটি পুরো শহরে সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করে আসছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাঠানতূলী এসিআই পানির কল সংলগ্ন সিটি কর্পোরেশনের পরিত্যক্ত বিল্ডিং এরিয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী নূর হোসেন নুরার একটি গোডাউন রয়েছে। সন্ত্রাসী আজমেরী ওসমানের সরাসরি নির্দেশে এই গোডাউনের ভেতরেই নিষিদ্ধ সংগঠনের গোপন রাজনৈতিক বৈঠক, মিছিল-মিটিংয়ের পরিকল্পনা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ছক আঁকা হয়। এছাড়া রাজনৈতিক কর্মসূচিতে লোক সাপ্লাই দেওয়ার পাশাপাশি এই গোডাউনটি মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুন, জমি দখল ও ডাকাতির মূল আস্তানা (টর্চার সেল) হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- আরও পড়ুন
- কৃতিত্বের স্বীকৃতি: নারায়ণগঞ্জে তারেক আল মেহেদীসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মাননা

- সারাদেশে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বাকেরগঞ্জে বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল

- নড়াইলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস এন্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্যবসায়ী সমাবেশ ও ট্রেনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

- নামাজ পড়াতে বেরিয়ে আর ফেরেননি হাফেজে কুরআন রোকনুজ্জামান, সন্ধান চায় পরিবার

- লিওনেল মেসির স্ত্রীর জীবন বদলে গেলো, সাবলীল ইংরেজিতে মুগ্ধ ভক্তরা

- নড়াইল জেলা জামায়তের নায়েবে আমীর বাদশা মিয়ার দাফন সম্পন্ন

মাদকের অভয়ারণ্য ও গার্মেন্টস কর্মীদের ওপর অত্যাচার
গত ৭ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও এই চক্রের অপকর্মের খতিয়ান উঠে আসে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল, আইলপাড়া, পাঠানতূলী মাঝিপাড়া, রসুলবাগ (এসিআই পানির কল নতুন ইকো পার্ক) এবং সদর থানাধীন হাজীগঞ্জ, নবীগঞ্জ খেয়াঘাট ও কেল্লাপুল এলাকার অলিগলিতে প্রতিদিন নির্বিঘ্নে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মারাত্মক মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে এই অঞ্চলের গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন হওয়ার পর, বাড়ি ফেরার পথে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই চক্রের অত্যাচারে নিরীহ শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ আজ সর্বস্বান্ত।
প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর আকুল আবেদন
সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহস পায় না। কোনো গণমাধ্যমকর্মী বা সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এলাকার সচেতন মহলের দাবি, অপরাধীরা যতই শক্তিশালী বা প্রভাবশালী হোক না কেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে র্যাব, পুলিশ প্রশাসন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের যৌথ ও সুনির্দিষ্ট অভিযান এখন সময়ের দাবি। আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে অপরাধীরা যেন পার না পেয়ে যায় এবং এই মাদক ও সন্ত্রাসী চক্রের সকল হোতাদের যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়, সেজন্য তারা ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119