“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

“নড়াইলে অতিরিক্ত দায়িত্বে ব্যস্ত সরকারি কর্মকর্তারা”

মোঃ সামিরুল ইসলাম
নড়াইল প্রকিনিধি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব অর্পণ করায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে ভোগান্তি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেবা প্রত্যাশীরা । খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুস্মিতা সাহা একাধারে উপজেলা  ভূমি অফিস ও লোহাগড়া পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত দপ্তরের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাকে সপ্তাহের তিন দিন ভূমি অফিস এবং বাকি দুই দিন পৌরসভা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা, নামজারি, খাজনা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে সাধারণ মানুষের । এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহা বলেন, ‘সরকার যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাসাধ্য পালন করার চেষ্টা করছি। দুটি অফিসের কার্যক্রম সমন্বয় করে পরিচালনা করতে হচ্ছে। কষ্ট হলেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি ।’এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় কৃষি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

বর্তমানে ওই দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুন্নু খাঁ। কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ, প্রণোদনা কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের তদারকিতে এর প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে । অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসের প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ মোহাম্মদ জসিম দীর্ঘদিন ধরে লোহাগড়ার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ৯ জুন থেকে তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জেলার আরেকটি উপজেলায় এলজিইডির প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে দুটি উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন কাজ তদারকি করতে গিয়ে তাকে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে । প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ মোহাম্মদ জসিম বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি।

তবে একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব থাকায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু ক্ষেত্রে সেবা কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে, যা নাগরিকদের জন্যও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’ এছাড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তাকেও নড়াইল সদর ও লোহাগড়া দুটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে আর্থিক কার্যক্রম, বিল-ভাউচার নিষ্পত্তি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজেও সময়ক্ষেপণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তার সংকট চলছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাজে এসে কর্মকর্তাদের না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় কিংবা অন্যদিন আসতে বলা হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে ।

  • আরও পড়ুন

নাগরিকদের দাবি, একটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা নিয়োগ না থাকলে কাঙ্ক্ষিত জনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জনস্বার্থে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ এবং অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সার বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে জনবল সংকট থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করেছে। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।

আশা করছি, খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন ।’ সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জনবল সংকট নিরসন ও প্রতিটি দপ্তরে পূর্ণকালীন কর্মকর্তা নিয়োগ না দিলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তির ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *