“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

লক্ষ্মীপুর সদর ১০০ শয্যা হাসপাতালে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য

​কবির হোসেন রাকিব  
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর জেলা সদর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে বেড়েই চলেছে দালালচক্রের অবাধ দৌরাত্ম্য। নামকাওয়াস্তে সেবা নিতে এসে প্রতিদিন দালালদের প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত সাধারণ ও অসহায় রোগী। সরকারি এ হাসপাতালটি যেনো এখন দালালদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে, যা দেখেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে কর্তৃপক্ষ।

​হাসপাতাল সূত্রে ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকেই টিকিট কাউন্টার, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং ওয়ার্ডগুলোর সামনে অবস্থান নেয় সংঘবদ্ধ দালালচক্রের সদস্যরা। গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল রোগীদের টার্গেট করে তারা নানামুখী প্রতারণার জাল ফেলে। সরকারি সুযোগ-সুবিধার কথা বলে কিংবা দ্রুত ডাক্তার দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে রোগীদের ভাগিয়ে নেওয়া হয় বাইরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

​শুধু তা ই নয়, সরকারি হাসপাতালে ফ্রিতে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও, চক্রটি রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে চড়া দামে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা ও এক্স-রে করাতে বাধ্য করে। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা প্রতি মোটা অঙ্কের কমিশন পায় এই চক্রটি। এমনকি হাসপাতালের ট্রলি টানা, টিকিট কাটা থেকে শুরু করে বেড পাওয়া পর্যন্ত—প্রতিটি পদক্ষেপে দর্শনার্থী ও রোগীদের গুনতে হয় বাড়তি টাকা। টাকা না দিলে জোটে দূরব্যবহার ও লাঞ্ছনা।

​হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডাক্তার দেখানোর আগেই তিন-চারজন এসে ঘিরে ধরে। এটা সেটা বুঝিয়ে বাইরের ক্লিনিকে নিয়ে যেতে চায়। মানা করলে তর্ক শুরু করে। আমরা চিকিৎসা নিতে আসি না কি এদের হাতে হয়রানি হতে আসি?” ​অন্য এক রোগীর স্বজন জানান, টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে প্যাথলজি ল্যাব পর্যন্ত সর্বত্রই দালালদের সক্রিয় উপস্থিতি। কোনো সরকারি কর্মচারী বা নিরাপত্তারক্ষী এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় না, যেন দেখার কেউ নেই।

  • আরও পড়ুন

​এদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালটি জেলার লাখ লাখ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার শেষ ভরসাস্থল। কিন্তু দালালদের সীমাহীন উপদ্রবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই দালালচক্রকে উচ্ছেদ করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *