আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্যাম্পাসে কথিত ‘দেশবিরোধী রাজনীতি’ এবং বেছে বেছে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুতে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানের পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে’ (পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর) স্লোগান দেওয়া উচিত।
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী ফিলিস্তিন ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও ফিলিস্তিনি পতাকা ব্যবহারের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি এসব কর্মসূচির সমালোচনা করে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাল্টা স্লোগানের পক্ষে মত দেন।
দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় শুভেন্দু ক্যাম্পাসের কথিত ‘দেশবিরোধী রাজনীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে বেছে বেছে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের অভিযোগ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান নিয়ে মন্তব্য
কাশ্মীর প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়ার পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে’ বা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরকে মুক্ত করার স্লোগান দেওয়া উচিত।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে মিছিলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার পরিবর্তে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের বিষয়টি সামনে আনা উচিত।
শুভেন্দু আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে তার রাজনৈতিক অবস্থান দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদকে গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে তিনি কথিত দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান।
‘কাশ্মীর দখল করব’ মন্তব্য
কাশ্মীরের ‘আজাদি’ প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, যারা কাশ্মীরের স্বাধীনতার কথা বলেন, তাদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনা উচিত।
পুলওয়ামা হামলা এবং পরবর্তী সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি ভারতের সামরিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যে শুভেন্দু বলেন, ‘আমরাও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর দখল করব।’ তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের বিমানবাহিনী অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
যাদবপুরের বাম রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের বামপন্থী রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও বক্তব্য দেন শুভেন্দু। ক্যাম্পাসের আর্টস হোস্টেল এবং কথিত মাওবাদী নেতা কিষাণজির প্রতি সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
এ ধরনের প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, ‘হয় তারা থাকবে, নয়তো আমরা থাকব।’ তার ভাষায়, ‘যথেষ্ট হয়েছে। এর মাঝামাঝি আর কিছু থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, বিজেপি সরকার যেসব শক্তিকে দেশবিরোধী বলে মনে করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- আরও পড়ুন
- বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬ এর জমকালো সমাপনী

- ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু

- গলাচিপা প্রেসক্লাবের নতুন সভাপতি শংকর লাল দাশ, সম্পাদক সাকিব হাসান

- সিনেমায় যা ছিল কল্পনা, নেপালে কি সেটাই বাস্তব? ‘2012’-এর দৃশ্য নিয়ে তুমুল চর্চা

- নেপালের বন্যা-ভূমিধসের মধ্যে শুটিং, দেশে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অপু বিশ্বাস

- বাকেরগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি সভা

‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও ক্ষোভ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা কথিত ‘আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। কলকাতার রাস্তায় ‘আজাদি’ স্লোগান শুনলে তার কষ্ট হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনারা কী স্বাধীনতা চাইছেন? দেশ তো বহু আগেই স্বাধীন হয়েছে।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যে শুভেন্দুর এসব মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানের পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে’ স্লোগানের আহ্বান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর পুনর্দখলের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119