“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

সরাইলে মাহফিল থেকে ১৪ বছরের কিশোরীকে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় একটি মাদ্রাসার মাঠ থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কৌশলে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ছয়জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া এলাকায়। ভুক্তভোগী কিশোরী সিমা আক্তার (১৪) (ছদ্মনাম) স্থানীয় উত্তরপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল কাদের ও জামেলা বেগমের মেয়ে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com

মাদ্রাসার মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়িউড়া সিরাজুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার মাঠে অবস্থান করছিল কিশোরীটি। এ সময় তাকে কৌশলে রাস্তার পাশে নিয়ে মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, পরে তাকে বাড়িউড়া ও ইসলামাবাদ সড়কের মধ্যবর্তী একটি বিলের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছয়জন মিলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।

একপর্যায়ে কিশোরীটি অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা পানি দিয়ে তাকে কিছুটা সুস্থ করে তোলে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত আল-আমিন ওরফে জিকিরি অটোরিকশায় করে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনা প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি কাউকে জানালে কিশোরী এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে পরিবারটি প্রথম দিকে বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা গত ১৫ অক্টোবর ঘটনাটি জানতে পেরে কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা

এদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন—জাকির মিয়া (৩০), নাঈম হোসেন (২২), সোহাগ মিয়া (২২), মোখলেছ (৩৫), বাহার মিয়া (২২) এবং আল-আমিন ওরফে জিকিরি (৪০)।

তাদের সবার বাড়ি সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

মামলা, আটক একজন

সরাইল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদার গত ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টার দিকে জানান, এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তির পরিচয়, মামলার বিস্তারিত ধারা এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

  • আরও পড়ুন

নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি।

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *