সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ ডা. শফিকুর রহমানের; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
ঢাকা২৪নিউজ ডেস্ক
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিভিন্নভাবে লোভ দেখানো হলেও জামায়াতে ইসলামী সেসব প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি; বরং প্রত্যাখ্যান করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিএনপি জনগণকে অবমূল্যায়ন করছে এবং নিজেদেরই কেবল জ্ঞানী মনে করছে। তাঁর দাবি, একের পর এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপের পর এখন সরকারি কর্ম কমিশনেও (পিএসসি) প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মেধার ভিত্তিতে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী অবস্থান নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন করেছিল। তাঁরা রাষ্ট্রকে সেবা দিতে চান। আর যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পিএসসি জড়িত।
জামায়াত আমিরের অভিযোগ, রাজনৈতিক সরকারের প্রভাব খাটিয়ে পিএসসির সদস্যদের পদত্যাগ করতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, পিএসসি কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সরকারি চাকরির গুরুত্বপূর্ণ এই ক্ষেত্রকে দলীয় লোকজন দিয়ে পূর্ণ করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, যেসব এলাকার মানুষ বিএনপিকে ভোট দেয়নি বা দেবে না, সেসব এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ না দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে রংপুরে রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জীবন দেওয়া আবু সাঈদের এলাকার মানুষের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ভোট ও উন্নয়নকে যেভাবে সম্পর্কিত করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাষ্ট্রীয় তহবিলে অবদান রাখেন। তাই উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা ভোটের ভিত্তিতে বৈষম্য করা উচিত নয়।
তাঁর অভিযোগ, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। এ ধরনের বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি
বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই ছিল মানুষের আকাঙ্ক্ষা।
কিন্তু তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সাত মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিরোধী দল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। জনগণের দেওয়া আসন থেকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দেশের মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।
‘জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় আদায় করব’
জামায়াত আমির বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলেও তাঁরা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবেন না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবি আদায়ে তাঁরা অটল থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বহু লোভ দেখানো হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর দিকে তাকাইনি; প্রত্যাখ্যান করেছি।’
তিনি আরও বলেন, জাতির সঙ্গে কেউ প্রতারণা করলেও বিরোধী দল হিমালয় পর্বতের মতো অটল থেকে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাবে।
ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য, তাঁদের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করা এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব
আন্দোলনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশকে ভালোবাসার জায়গা থেকেই তাঁরা রাজনীতি করেন। জ্বালাও-পোড়াও তাঁদের আন্দোলনের কর্মসূচি নয়।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে। তাঁর মতে, দেশপ্রেম ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে অবস্থান করেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, তাঁরা বিএনপির পতন চাননি; বরং দলটির সফলতা চেয়েছিলেন। কারণ, তাঁদের বিবেচনায় সরকারের সফলতা দেশের সফলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে বর্তমান সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারতন্ত্র ও সিন্ডিকেটের সমালোচনা
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, দেশের স্বার্থের আগে নিজেদের ও পরিবারের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের হাতে দেশকে তুলে দেওয়া যাবে না। তরুণদের জেগে ওঠার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পূর্ণমুক্তি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে যুবসমাজের সঙ্গে আরও শক্তিশালীভাবে কাজ করতে চায় বিরোধী দল।
- আরও পড়ুন
- সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, রিয়াদের কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

- বহু লোভ দেখানো হলেও আপস করিনি, জুলাই সনদের রায় আদায় করব: জামায়াত আমির

- সরাইলে মাহফিল থেকে ১৪ বছরের কিশোরীকে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

- তারুণ্যের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে চলছে এবিজি স্পোর্টস সিটি

- সেনাসদস্যদের ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন: প্রধানমন্ত্রী

- শুধু বই পড়ালেই প্রকৃত শিক্ষক হওয়া যায় না: জেলা প্রশাসক

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা
এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119