নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, আমাদের দেশের ৩২ হাজার স্কুলের প্রধান শিক্ষক বর্তমানে নেই। একইসঙ্গে, এই সংখ্যক স্কুলের জন্য নিযুক্ত ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দিতে পারছি না। এর মূল কারণ হলো একটি মামলার জটিলতা, যা এই সমস্যার সৃষ্টি করেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মামলাটি নিষ্পত্তি হলে অনেকগুলো সমস্যা সমাধান হবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি আসবে।
আজ রোববার দুপুরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমাদের ৩২ হাজার স্কুলের প্রধান শিক্ষক নেই, আর সেই সময়ের জন্যই আমরা নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছি না। এটি মামলার জন্য বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে এই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। যদি এটি সম্ভব হয়, তাহলে আমাদের স্কুলের শিক্ষক সংকট অনেকটা কমে যাবে।”
এর আগে, উপদেষ্টা কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর লেমশীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব ধূরুং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, অবকাঠামো এবং অফিসকক্ষ পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি, তিনি কুতুবদিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাতিঘর ও সৈকত স্থানটি পরিদর্শন করে এলাকার সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “কুতুবদিয়ার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখলাম, এখানে শিক্ষকসংকট খুবই প্রকট। বিশেষ করে, এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট দূর করার জন্য প্রয়োজন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই অঞ্চলের স্কুলগুলোতে শিক্ষকসংকট দূর করতে হবে। এর ফলে, শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভালো পরিবেশ সৃষ্টি হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার সহধর্মিণী রমা সাহা, ঢাকা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী রেজা, কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন মিয়া, কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যথোয়াইপ্রু মারমা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাকিব উল হাসান, কুতুবদিয়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মুসলিম উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস, এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফরহাদ মিয়া।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য এই ধরনের পরিদর্শন ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, শিক্ষক সংকট দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া ও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সবরকম সমর্থন পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

01612346119