নিজস্ব প্রতিবেদক
সাক্ষীর অনুপস্থিতি, অনিয়মিত হাজিরা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের আদালতগুলোতে বিপুলসংখ্যক মামলা বছরের পর বছর অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো কোনো মামলার বিচার ১৪ বছর থেকে ২৮ বছর পর্যন্তও ঝুলে রয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের উচ্চ ও অধস্তন আদালতে মোট ৪৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৩১টি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে অধস্তন আদালতেই রয়েছে ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি অনিষ্পন্ন মামলা, যার মধ্যে ২৩ লাখ ৭২ হাজার ফৌজদারি মামলা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত সমন পাঠানো হলেও অনেক সাক্ষী আদালতে হাজির হন না। আবার অনেককে নির্ধারিত ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে মামলার বিচার একপর্যায়ে থেমে যায়। এ অবস্থায় আসামিপক্ষ অব্যাহতির আবেদন করে, অনেক ক্ষেত্রেই তা মঞ্জুর হয়। সূত্র মতে, আদালতে সাক্ষীদের অনীহার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। এর মধ্যে রয়েছে আদালত নিয়ে ভয় ও অস্বস্তি, নিরাপত্তাহীনতা, সাক্ষী সুরক্ষা আইন না থাকা, ভাতা না পাওয়া, দীর্ঘসূত্রতা, স্থায়ী ঠিকানা না থাকা, সরকারি সাক্ষীদের বদলি বা অবসর, সাক্ষীর মৃত্যু এবং সমন পাঠাতে উদাসীনতা। এছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বিশ্রাম বা প্রয়োজনীয় সুবিধা না পাওয়ায় অনেকে আদালতমুখী হন না।
আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭১(২) ধারা ও পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) অনুসারে সাক্ষী হাজির ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের। এ ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ২০১১ সালে জাতীয় আইন কমিশন ফৌজদারি মামলার সাক্ষী ও ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষায় ‘সাক্ষী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে খসড়াও তৈরি হয়। ২০১৫ সালে হাইকোর্টও দ্রুত এ আইন প্রণয়নের তাগিদ দেয়। তবে এখনো আইনটি আলোর মুখ দেখেনি।

এদিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৪ ধারায় সাক্ষীদের খরচ দেওয়ার বিধান থাকলেও প্রায় দুই দশক ধরে এ খাতে বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দিলেও তাতে অগ্রগতি হয়নি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, সাক্ষীদের সমন পাঠানো ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। যেসব মামলার নথিতে ফোন নম্বর থাকে, সেসব ক্ষেত্রে যোগাযোগ সহজ হয়। তবে পুরোনো মামলার অনেক সাক্ষীকে ঠিকানায় পাওয়া যায় না, ফলে জটিলতা বাড়ে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাক্ষীদের নিরাপত্তা, ভাতা ও আদালতবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে মামলাজট নিরসন কঠিন হয়ে পড়বে।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119