“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে ভাই-বোনের দ্বন্দ্ব, ধান কাটতে বাধা—থানায় অভিযোগ

মোঃ সোলায়মান গনি/ কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম শহরের কৃষ্ণপুর চড়ুয়াপাড়া গ্রামে পিতার লিখে দেওয়া জমি ফেরত না দিলে, বোনদের জমির ধান কাটতে বাধা দিচ্ছেন ভাইয়েরা; এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার, ২৭ এপ্রিল, কুড়িগ্রাম সদর থানায় নার্গিছ বেগমের দায়েরকৃত অভিযোগে জানা যায়, ওই গ্রামের ৯৩ বছর বয়সী পিতা নছিয়ত উল্যাহ ২০১৮ সালে ৭ অক্টোবর ৫৪১০ নম্বর সাব-রেজিস্ট্রি দলিল মূলে ৪৭ শতক জমি তার তিন মেয়ে—নার্গিছ, লাভলী ও নাজমার নামে লিখে দেন। ওই জমি তারা চাষাবাদ করে আসছিলেন। চলতি বোরো মৌসুমে সেই জমিতে ধান রোপণ করেন তারা।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

ধানগাছ বড় হলে জমিতে পানি দেওয়ার সময় ভাই ও তাদের পরিবারের লোকজন বাধা প্রদান করেন। বিশেষ করে ১৩ এপ্রিল নাহিদ ইসলাম, নার্গিছের ছেলে, জমিতে পানি দিতে গেলে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং গালিগালাজ করা হয়। একই দিন বিকেলে নার্গিছ ও তার বোন নাজমা জমির ধান ক্ষেত দেখতে গেলে, ভাই ও তার পরিবারের লোকজন তাদেরও জমি থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং হুমকি দেয় যে, বাবার জমি ফেরত না দিলে ধান কেটে নেবে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নার্গিছ বেগম বলেন, “আমাদের জমির ফসলই আমাদের ভবিষ্যৎ, আমরা খুব কষ্টে জীবনযাপন করি, আমাদের বাঁচান।” তিনি ভাই গোলাম মোস্তফা, তার স্ত্রী লিপা বেগম, গোলাম রব্বানীর পুত্র আনোয়ার হোসেন, আতা মিয়া, এবং ভাই মিজানুর ও তার স্ত্রী আরিফা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে এএসআই সোহেল রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, তবে কোনো সমাধান করতে পারেননি। পরে বিষয়টি সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে ন্যস্ত করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, বোনেরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি চাষাবাদ করে আসছেন, কিন্তু ভাইরা তা মানছেন না। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই আইনগত সুবিচার হওয়া উচিত, এমনটিই দাবি স্থানীয়দের। অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদরের ফাঁড়ি ইনচার্জ রাজু আহমেদ বলেন, “ভাই-বোনের জমি বিরোধ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে, আমরা দুই পক্ষকেই শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছি, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *