এ.বি.এম. হাবিবুর রহমান
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চকরাজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আহাম্মেদ আলী ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির সহ-সভাপতি মোছা. রোকসানা বেগম চলতি বছরের ১ জানুয়ারি আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আহাম্মেদ আলী ও প্রধান শিক্ষক মো. আলতাফ হোসাইন যোগসাজশে সভাপতির কন্যার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য পরিবর্তন করে বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করেন এবং পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ লাভের সুযোগ সৃষ্টি করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন রেজিস্টার অনুযায়ী আহাম্মেদ আলীর কন্যা তাজকিয়া আক্তার তুলির প্রকৃত জন্মতারিখ ১৪ মার্চ ২০১৮। কিন্তু বিদ্যালয়ে ভর্তি ও প্রশাসনিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে জন্মতারিখ পরিবর্তন করে ১৪ জানুয়ারি ২০১৭ দেখিয়ে একটি ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করা হয়। এ কাজে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদালত বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সিআইডি নওগাঁকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্ত শেষে সিআইডি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, তাজকিয়া আক্তার তুলির জন্ম নিবন্ধনের প্রকৃত তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পরিবর্তিত জন্ম নিবন্ধনের ভিত্তিতে শিশুটিকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে ওই নথির আলোকে আহাম্মেদ আলী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- আরও পড়ুন
- জামায়াতের প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধ আছে, নেই জামায়াত
- দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসায় ফলাফল ঘোষণা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
- নতুন রূপে মারিয়া মীম, শুক্রবার আসছে ‘রিল রঙ্গিলা’
- খুলশীতে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ
- ‘শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিচ্ছে’—রিজভী
- দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, দুই মাসে খুলছে কালিয়ার বারইপাড়া সেতু
প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119