“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

মেরিনোর শেষ মুহূর্তের ম্যাজিক, রোনালদোকে কাঁদিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন!

স্পোর্টস ডেস্ক

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে মিলল না গোলের দেখা। ম্যাচ যখন নিশ্চিতভাবেই অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির মিকেল মেরিনো। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে তার করা বুলেট গতির গোলেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে (কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়ে) জায়গা করে নিল স্পেন। আর এই নির্মম বিদায়ে চোখের জলে নিজের শেষ বিশ্বকাপ মিশন শেষ করলেন ফুটবল কিংবদন্তি সিআরসেভেন।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমার্ধ থেকেই বল দখল ও আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে দুই দল। পুরো ম্যাচ জুড়েই ছড়ালো তুমুল উত্তেজনা।

প্রথমার্ধ: মিসের মহড়া ও স্প্যানিশদের দুর্ভাগ্য

ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগিজ রক্ষণভাগে কাঁপন ধরায় স্পেনের ফরোয়ার্ডরা।

  • ৩ মিনিট: মিডফিল্ডে বল কেড়ে নিয়ে দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠেন স্পেনের মিকেল ওয়ারাজাবাল। একাই বল নিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে শট নিলেও পর্তুগাল গোলরক্ষক ডিয়েগো কস্তা দারুণ সেভে দলকে রক্ষা করেন। এর পরপরই লামিনে ইয়ামালের নিখুঁত ক্রস বক্সে ফাঁকায় পেলেও কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড় না থাকায় গোল পায়নি স্পেন।
  • ৮ মিনিট: দানি ওলমোর থ্রু পাস ধরে ওয়ারাজাবাল আবারও বক্সে ঢুকে মাটি ঘেঁষা শট নেন, যা পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
  • ১২ মিনিট: প্রথমবার সুযোগ পায় পর্তুগাল। ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস থেকে বক্সের ডান প্রান্তের কঠিন কোণ থেকে ডান পায়ে শট নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তবে স্প্যানিশ প্রাচীর উনাই সিমন তা রুখে দেন।
  • ১৬ মিনিট: আবারও ইয়ামাল-ম্যাজিক! ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাম পায়ে বাঁকানো শট নেন এই তরুণ তুর্কি, যা কস্তা ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে শট নেন অ্যালেক্স বায়েনা। তবে এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান কস্তা।
  • ৪১ মিনিট: প্রথম হাফের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক মুহূর্তটি ছিল পর্তুগালের। নুনো মেন্দেসের বাঁ পায়ের জোরালো শট স্পেনের পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করে সোজা গোলপোস্টে আঘাত হানে! নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বেঁচে যায় স্পেন।

ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

  • আরও পড়ুন

দ্বিতীয়ার্ধ: কোচেদের কৌশল ও কস্তার দেয়াল

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে (৪৮ মিনিটে) ফ্রি-কিক থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেসের শট অনায়াসে লুফে নেন উনাই সিমন। ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের পরও গোলমুখ খুলতে পারছিল না কেউ।

৭১ মিনিটে ম্যাচে গতি বাড়াতে পর্তুগাল কোচ রোবের্তো মার্তিনেজ মাঠে নামান রাফায়েল লেয়াও ও ডিয়োগো দালোটকে। ৭৩ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের আরও একটি চমৎকার ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে বাঁচিয়ে দেন ম্যাচের অন্যতম সেরা তারকা ডিয়েগো কস্তা। ৭৬ মিনিটে ব্রুনোর শট সাইড নেটে লাগলে হতাশ হয় পর্তুগিজ সমর্থকেরা।

অতিরিক্ত সময় ও মেরিনো নাটকের শেষ অঙ্ক

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে রেফারি যখন ৬ মিনিটের ইনজুরি টাইম বা অতিরিক্ত সময়ের ঘোষণা দিলেন, তখনই ভাঙলো ম্যাচের ডেডলক।

৯০+১ মিনিট: বদলি হিসেবে মাঠে নামা মিকেল মেরিনো হয়ে উঠলেন স্পেনের ত্রাতা। পর্তুগালের দুই সেন্টার-ব্যাকের মাঝের শূন্যস্থান দিয়ে চিতার গতিতে বক্সে ঢোকেন তিনি। সতীর্থের বাড়ানো নিখুঁত পাস পেয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নিচু শটে বল জড়ান জালের কোনায়। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে উল্লাসে মাতে স্পেন।

৯০+৬ মিনিট: ম্যাচের একেবারে শেষ সেকেন্ডে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে পর্তুগাল। বার্নার্দো সিলভার উঁচুতে লাফিয়ে নেওয়া হেডটি গোলবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে গেলে রেফারির শেষ বাঁশির সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় পর্তুগালের বিদায়।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:

  • স্পেন: ১ (মিকেল মেরিনো – ৯০+১’)
  • পর্তুগাল:
  • ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: ডিয়েগো কস্তা (পর্তুগাল) / মিকেল মেরিনো (স্পেন)

উপসংহার: এই হারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তের এই মহানাটকীয় জয়ে শিরোপার সুবাস নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটলো স্পেনের ‘লা রোজা’রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *