মোহাম্মদ সামিরুল ইসলাম
নড়াইল প্রতিনিধি
একসময় গ্রামবাংলার বন-জঙ্গল, ঝোপ-ঝাড় ও বাড়ির আশপাশে চোখে পড়ত দেশীয় ফল গাবের গাছ। লোককথা, প্রবাদ-প্রবচন ও বাংলা সাহিত্যের নানা উপমায় স্থান পাওয়া এই গাছকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য ও কুসংস্কারের গল্প। গাব গাছে ভূত-পেতনি বাস করে এমন বিশ্বাস গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেকের মুখে মুখে শোনা যায়।
তবে লোককাহিনীর সেই পরিচিত গাব গাছ এখন ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। বাংলা সাহিত্যে ‘গাব গাছের ভূত’, ‘গাবের আঠার মতো লেগে থাকা’ কিংবা ‘গাবের ঢেঁকি’ এ ধরনের বহু উপমায় গাবের উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও ফল হিসেবে গাব খুব বেশি সুস্বাদু নয়, তবুও হালকা মিষ্টি ও কষযুক্ত স্বাদের এই ফলের রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। কাঁচা অবস্থায় সবুজ রঙের ফলটি পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাঢ় বাদামি আবরণ ধারণ করে এবং পাকলে হলদেটে বর্ণ ধারণ করে।
বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলে দেশি গাবের বিস্তৃতি বেশি। এটি একটি চিরসবুজ ও বহুবর্ষজীবী বৃক্ষ। দেশে সাধারণত দুই ধরনের গাব দেখা যায় দেশি গাব ও বিলাতি গাব। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম ‘তিন্দুকা’ এবং তামিল ভাষায় ‘তুম্বিকা’। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে দেশি গাবের আদি নিবাস হিসেবে ধরা হয়। ধীরগতিতে বেড়ে ওঠা গাব গাছের মাথা ঝোপালো এবং পাতাগুলো মোটা, চর্মবৎ ও চকচকে। অত্যন্ত শক্ত কাঠের এ গাছের চিকন ডালও সহজে ভাঙে না। একটি পরিপক্ব গাব গাছের উচ্চতা ৩০ থেকে ৩৫ মিটার এবং ব্যাস ৬৫ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
গাব গাছের সাদা ফুলগুলো ছোট ছোট মার্বেলের মতো দেখতে। পাকা ফলের ভেতরের অংশ আঠালো ও চটচটে। গ্রীষ্মকালীন এই ফল একসময় গ্রামাঞ্চলে সহজলভ্য হলেও বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, বন-জঙ্গল উজাড় এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে গাব গাছের সংখ্যা উল্লেখ যোগ্য ভাবে কমে গেছে। ফলে গ্রামবাংলার চিরচেনা এই ফল এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। দেশি গাবের সবচেয়ে বড় ব্যবহার এর আঠা।
- আরও পড়ুন
- কৃতিত্বের স্বীকৃতি: নারায়ণগঞ্জে তারেক আল মেহেদীসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মাননা

- সারাদেশে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বাকেরগঞ্জে বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল

- নড়াইলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস এন্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্যবসায়ী সমাবেশ ও ট্রেনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

- নামাজ পড়াতে বেরিয়ে আর ফেরেননি হাফেজে কুরআন রোকনুজ্জামান, সন্ধান চায় পরিবার

- লিওনেল মেসির স্ত্রীর জীবন বদলে গেলো, সাবলীল ইংরেজিতে মুগ্ধ ভক্তরা

- নড়াইল জেলা জামায়তের নায়েবে আমীর বাদশা মিয়ার দাফন সম্পন্ন

ফল থেকে উৎপাদিত ট্যানিনজাতীয় আঠা জেলে সম্প্রদায় মাছ ধরার জালে ব্যবহার করে থাকে। এতে জাল মজবুত হয় এবং সহজে পচন ধরে না। এছাড়া পশুর চামড়া, নৌকা ও বিভিন্ন সামগ্রী টেকসই করতেও গাবের আঠা ব্যবহৃত হয়। কাপড়ে কালো রং তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। কাঁচা ফল পচিয়ে তৈরি করা বিশেষ রঞ্জক দিয়ে জেলেরা জালে রং করে থাকেন।লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুন্নাহার লিনা বলেন, “গাব একটি পরিচিত বনজ ফল।
এটি পুষ্টিগুণ ও ঔষধিগুণে সমৃদ্ধ। বন-জঙ্গল উজাড় হওয়ার কারণে এখন আগের মতো গাব গাছ দেখা যায় না। প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বেশি করে গাব গাছ রোপণ করা প্রয়োজন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119