“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

‘শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিচ্ছে’—রিজভী

এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানকালে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে ভারত দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তন এসেছে, তার প্রতি প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ‘গ্যালারি হামিদুজ্জামান’ ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘গ্যালারি হামিদুজ্জামান’ ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। ছবি: এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা

রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ, যেদিন জনগণের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। তার দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করেছে। ওই সময়ে ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি শিশুরাও সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই ছিল গণঅভ্যুত্থান, যা তৎকালীন সরকার উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছিল। শেখ হাসিনার শাসনামল প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, অর্থ পাচার এবং আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করার অভিযোগের কারণে ইতিহাসে তার শাসনকাল নেতিবাচকভাবেই মূল্যায়িত হবে।

ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে বেসরকারি আয়োজন উল্লেখ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, এটি ভারতের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বিমুখী নীতির উদাহরণ।

  • আরও পড়ুন

নিজের বক্তব্যের পক্ষে উদাহরণ টেনে রিজভী বলেন, অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনি বিষয়ে ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি পাননি। পরবর্তীতে তিনি দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলেও ভারত সরকার অনুমতি দেয়নি। অথচ বর্তমানে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রিজভী আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা একসময় বলেছিলেন তিনি ভারতকে এমন কিছু দিয়েছেন, যা দেশটি দীর্ঘদিন মনে রাখবে। ভারতের বর্তমান অবস্থান সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ যে পরিবর্তন এনেছে, তার প্রতি সম্মান দেখানো এবং দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন করা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *