মোঃ রাশেদুল আলম
বরিশাল-বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল): পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বরিশালের বাকেরগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের উদ্যোগে দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সবুজায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। কর্মসূচির ব্যানারে ‘সবুজ বৃক্ষায়ন’ কার্যক্রমের কথা তুলে ধরা হয় এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

বৃক্ষ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এটি মানুষের জীবন ও পরিবেশের জন্য অপরিহার্য। গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন সরবরাহ করে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও চারা পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে অংশগ্রহণ এবং রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যার আহ্বানও জানিয়েছেন।
বাকেরগঞ্জের বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে তাই সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃক্ষরোপনের প্রতি তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
স্থানীয়দের মতে, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে চারা রোপণ করলেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য পূরণ হবে না; প্রতিটি গাছকে বাঁচিয়ে তুলতে নিয়মিত পরিচর্যা, পানি দেওয়া, গবাদিপশুর হাত থেকে সুরক্ষা এবং প্রয়োজনে গাছের চারপাশে বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। একটি চারা যখন বড় হয়ে ছায়া দেয়, ফল দেয় এবং পরিবেশের জন্য অবদান রাখে, তখনই প্রকৃত অর্থে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন জমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহাবুদ্দিন তালুকদার শাহিন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ কামরুজ্জামান মিজান মিয়া, যুবদল ও ছাত্রদলের সেক্রেটারিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
- আরও পড়ুন
- স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রীসহ গ্রেফতার-২

- “বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল”

- বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬ এর জমকালো সমাপনী

- ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু

- গলাচিপা প্রেসক্লাবের নতুন সভাপতি শংকর লাল দাশ, সম্পাদক সাকিব হাসান

- সিনেমায় যা ছিল কল্পনা, নেপালে কি সেটাই বাস্তব? ‘2012’-এর দৃশ্য নিয়ে তুমুল চর্চা

বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তার দুই পাশ, খালের পাড়, পতিত জমি ও উপযুক্ত সরকারি-বেসরকারি স্থানে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে একটি নির্মল, সবুজ ও নিরাপদ পরিবেশ।
বাকেরগঞ্জের এই বৃক্ষরোপণন কর্মসূচি শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার বৃহৎ উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার মাধ্যমে বাকেরগঞ্জকে আরও সবুজ, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119