“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

জমি সংক্রান্ত বিরোধে গর্ভবতী নারীর ওপর হামলা, ৬ মাস পর মৃত সন্তান প্রসবের অভিযোগ

কবির হোসেন রাকিব
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় ৬ মাস পর ওই নারী একটি মৃত সন্তান প্রসব করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সুরমা আক্তার (২৫) অভিযোগ করে বলেন, বিবাদীদের হামলায় তাঁর গর্ভের সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তীতে শিশুটি মারা যায়।

​মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর জগবন্ধু গ্রামের প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী সুরমা আক্তারের সাথে একই বাড়ির বিবাদী চার ভাই—রাকিব (২৪), পারবেজ (২৬), আলম (৩০), তাদের বাবা আবদুর রব (৫০) ও মা শেফালী বেগম (৪৮)-এর দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে শত্রুতা চলছিল।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

​অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুরে বিবাদীগণ একযোগে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সুরমা আক্তারের বসতঘরের সামনে উঠানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘিরে ফেলে। সুরমা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা সত্ত্বেও ১নং বিবাদী রাকিব তাঁর চুলে ধরে মাটিতে ফেলে পেটে উপুর্যুপুরি লাথি মারে। ২নং বিবাদী পারবেজ কাঠের রোল দিয়ে বুকে-পিঠে আঘাত করে এবং ৩নং বিবাদী আলম গলা টিপে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা চালায়।

​সুরমাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে ১নং সাক্ষী ওসমানকে বিবাদী রাকিব ছুরি দিয়ে চোখের নিচে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। হামলাকারীরা সুরমার শ্লীলতাহানি করে এবং তাঁর গলা থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ও ২নং বিবাদী ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ​আহত অবস্থায় প্রথমে ১নং সাক্ষীকে এবং পরবর্তী দিনে গুরুতর আহত সুরমা আক্তারকে উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় (সুরমার ভর্তি রেজিস্ট্রি নং: ৩৭০৯/২১)।

উক্ত ঘটনায় সুরমা আক্তার বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কমলনগরে দণ্ডবিধির ১৪৭/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬(২) ধারায় সিআর মামলা দায়ের করেন।
​ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সুরমা আক্তার একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন। ভুক্তভোগী সুরমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বিবাদীদের নির্মম পিটুনি ও লাথির আঘাতেই আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত মরা বাচ্চার জন্ম দিতে হয়েছে। আমি এই অন্যায়ের সঠিক ও সুনির্দিষ্ট বিচার চাই।”

​বিবাদীদের বক্তব্য:
ঘটনার বিষয় এবং মৃত সন্তান প্রসবের অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে বিবাদী পারবেজ গং সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাচ্চা হওয়ার পর স্বাভাবিক কারণেই মারা গেছে, এর সাথে মারধরের কোনো সম্পর্ক নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।”
​ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের কাছে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *