“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

নড়াইলে সংঘর্ষে নিঃস্ব নিরীহ ব্যবসায়ী শাকিল, তিলে তিলে গড়া স্বপ্ন ধ্বংস, পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম

মোঃ সামিরুল ইসলাম
নড়াইল প্রতিনিধি

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষ ও সহিংসতার বলি হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা বাজারের নিরীহ তরুণ ব্যবসায়ী মো: শাকিল মোল্যা। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা তাঁর একমাত্র আয়ের সম্বল ‘শাকিল কম্পিউটার এন্ড ফটোকপি’ দোকানটি ভাঙচুর ও লুটপাট করায় বর্তমানে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

সরে জমিনে জানা যায়, গত ০৩ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার ভদ্রবিলা স্কুল মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পলইডাঙ্গা গ্রামের মোস্ত কাজীকে কুপিয়ে হত্যা করে ভদ্রবিলা গ্রামের কতিপয় দুর্বৃত্ত। ওই দিন বিকেলে মোস্ত কাজীর স্বজনসহ পলইডাঙ্গা গ্রামের ক্ষুব্ধ লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভদ্রবিলা গ্রাম ও বাজারে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com

লুটপাটের একপর্যায়ে দুষ্কৃতকারীরা শাকিলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। দোকানে থাকা ২টি কম্পিউটার, ২টি ল্যাপটপ, ২টি প্রিন্টার, ১টি ফটোকপি ও ১ টি লেমিনেটিং মেশিন, ১ ব্যাটারি সহ আইপি এসসেট, ১ টিওয়াইফাই সেট, ১ টি গ্যাস সিলিন্ডার, গ্রিন্ডার মেশিন, ও ৫টি মোবাইল ফোন, ১ লাখ টাকার মোবাইল এক্সেসরিজ মালামাল এবং ক্যাশে থাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নগদ ১,৫০,০০০ টাকাসহ যাবতীয় জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এতে তাঁর আনুমানিক ৬ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী জানান।

২০১৬ সালে শাকিলের উপার্জনক্ষম বাবা খায়রুল মোল্যা স্ট্রোক করে মারা যাওয়ার পর পরিবারটি অর্থাভাবে দিশেহারা হয়ে পড়ে। অনাচারে-অর্ধাহারে থাকা তিন বোন ও বৃদ্ধা মাকে বাঁচাতে পড়াশোনার পাশাপাশি ভদ্রবিলা বাজারে ফ্ল্যাক্সিলোড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ছোট ব্যবসা শুরু করেন শাকিল। কঠোর পরিশ্রমে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়ে কম্পিউটার, ফটোকপি ও অনলাইন সেবার দোকানটি দাঁড় করান তিনি। বৃদ্ধা মা, বোন এবং নবপরিণীতা স্ত্রীকে নিয়ে সুখের মুখ দেখার মুহূর্তেই আচমকা এক সহিংসতায় থমকে গেছে তাঁর জীবন।

অশ্রুসজল চোখে ভুক্তভোগী শাকিল বলেন, “আমি একদম নিঃস্ব হয়ে গেছি। গ্রামের কোনো দলাদলির মধ্যে আমি ছিলাম না, আমার কি দোষ ছিল? ১০ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা দোকানটা এক মুহূর্তে শেষ করে দিল। এখন কীভাবে সংসার চালাবো, কীভাবে এনজিওর ঋণের কিস্তি দেব? এখন পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। আমার কাছে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।”

  • আরও পড়ুন

তিনি আরও জানান, তাঁর একমাত্র আয়ের উৎসটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এখন বৃদ্ধা মা ও বোনদের নিয়ে দুবেলা দুমুঠো ভাত খাওয়ার মতো সংস্থানও নেই। তিনি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, এলাকার বিবেকবান মানুষ ও প্রশাসন যেন জড়িতদের শনাক্ত করে তাঁর মালামাল ফেরতসহ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেন, যাতে তিনি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *