রংপুর সংবাদদাতা
কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় রংপুরে এবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ মানুষ, মাদরাসা-এতিমখানা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সরকারের নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি হওয়ায় ‘গরিবের হক’ বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, অদৃশ্য সিন্ডিকেট ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গত বছর চামড়া কিনে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা লোকসান গুনেছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা রাশেদুজ্জামান রাশেদ। সেই অভিজ্ঞতায় এবার তিনি চামড়া ব্যবসা থেকে দূরে থেকেছেন। তার মতো আরও অনেক ব্যবসায়ী লোকসান ও বকেয়া অর্থের চাপে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে চামড়া কেনাবেচা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যবসায়ীর মধ্যে।
সরকার চলতি বছর ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে অধিকাংশ চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। বর্গফুট অনুযায়ী দাম না পেয়ে হতাশ হয়েছেন বিক্রেতারা। ঈদের দিন রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে দুইটি গরুর চামড়া মাত্র সাড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন দুই ভাই রায়হান ও রাফসান। তারা জানান, কয়েক লাখ টাকার গরুর চামড়ার এমন মূল্য তাদের হতাশ করেছে।
মৌসুমি ব্যবসায়ী নুর হোসেন জানান, ১০টি গরুর ও ১৫টি খাসির চামড়া কিনে তিনি প্রায় ৮০০ টাকা লোকসান করেছেন। গরুর চামড়ায় সামান্য দাম মিললেও খাসির চামড়া অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যেই দিতে হয়েছে। এবার সরাসরি চামড়া বিক্রির পরিবর্তে অনেক মানুষ মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে চামড়া দান করেছেন। তবে ন্যায্য দাম না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানও আর্থিক সংকটে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান চামড়া বিক্রি না করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেছে।
- আরও পড়ুন
- জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে যশোরে মোটরসাইকেল ঠেলে বিক্ষোভ এনসিপির
- ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি: মৌলভীবাজারে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ
- তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের হামলায় বৃদ্ধ নিহত
- সরকারি দামের চেয়ে অনেক কমে চামড়া বিক্রি, বঞ্চিত গরিবের হক
- চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে প্রাইভেটকার থেকে ২ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার আটক ১জন
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, ট্যানারি মালিকদের কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া, পুঁজির সংকট, ঋণ সুবিধার অভাব এবং লবণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে একের পর এক ব্যবসায়ী চামড়া ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। রংপুরের ঐতিহ্যবাহী চামড়াপট্টির চিত্রও বদলে গেছে। এক সময় যেখানে শতাধিক ব্যবসায়ী চামড়া কেনাবেচা করতেন, সেখানে এখন অধিকাংশ দোকান অটোরিকশা ও যন্ত্রাংশের ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয়রা এলাকাটিকে এখন ‘অটোপট্টি’ বলেই বেশি চেনেন।
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে তা লবণযুক্ত চামড়ার জন্য। যথাযথভাবে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে বাজারজাত করলে নির্ধারিত মূল্য পাওয়া সম্ভব হবে। তবে ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ, প্রণোদনা, কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা এবং কার্যকর বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই শিল্প আরও সংকটের মুখে পড়বে।
রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ২ লাখ ৫ হাজারের বেশি পশু কোরবানি হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণের জন্য ৬ শতাধিক মাদরাসা ও এতিমখানায় সরকারিভাবে ১৯৫ মেট্রিক টন লবণ বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এবার কোথাও চামড়া অবিক্রিত অবস্থায় নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119